রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ধানের আগাম টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে।
গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বাঘমারার হাটে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বাঘমারার হাটে ধানের আগাম টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী বাবুলের সঙ্গে শিরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির তর্কাতর্কি শুরু হয়। এ সময় পাশে থাকা আরেক ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম তাঁদের কথাকাটাকাটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিরিকুল এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াজুলকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
এই নিয়ে রিয়াজুল ও শিরিকুলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে রিয়াজুল পাশেই থাকা একটি কাঠের চেয়ার তুলে শিরিকুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। চেয়ারের আঘাতে শিরিকুল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাটের লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
শিরিকুলের ওপর হামলার খবর তাঁর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই গ্রামের শয়ে শয়ে মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘমারার হাটে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
একপর্যায়ে রিয়াজুল পক্ষের অধিকাংশ লোকজন পালিয়ে গেলেও চারজন সদস্য আত্মরক্ষার্থে হাটের পাশের দুটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় শিরিকুল পক্ষের উত্তেজিত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই দোকান দুটি অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দোকান দুটি ঘেরাও করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের তীব্র বাধা উপেক্ষা করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় দোকান দুটি থেকে অবরুদ্ধ চারজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
"ধানের আগাম টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে গ্রাম্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ধানের আগাম টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে।
গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বাঘমারার হাটে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বাঘমারার হাটে ধানের আগাম টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী বাবুলের সঙ্গে শিরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির তর্কাতর্কি শুরু হয়। এ সময় পাশে থাকা আরেক ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম তাঁদের কথাকাটাকাটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিরিকুল এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াজুলকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
এই নিয়ে রিয়াজুল ও শিরিকুলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে রিয়াজুল পাশেই থাকা একটি কাঠের চেয়ার তুলে শিরিকুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। চেয়ারের আঘাতে শিরিকুল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাটের লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
শিরিকুলের ওপর হামলার খবর তাঁর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই গ্রামের শয়ে শয়ে মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘমারার হাটে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
একপর্যায়ে রিয়াজুল পক্ষের অধিকাংশ লোকজন পালিয়ে গেলেও চারজন সদস্য আত্মরক্ষার্থে হাটের পাশের দুটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় শিরিকুল পক্ষের উত্তেজিত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই দোকান দুটি অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দোকান দুটি ঘেরাও করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের তীব্র বাধা উপেক্ষা করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় দোকান দুটি থেকে অবরুদ্ধ চারজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
"ধানের আগাম টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে গ্রাম্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন