ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় কৃষিজমিতে হাল চাষ করার সময় বজ্রপাতে ফজলু (৩৮) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কাচনা হরিন্দা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ফজলু কাচনা হরিন্দা গ্রামের বাসিন্দা মহশিন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং কৃষিকাজের মাধ্যমেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করতে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা ছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যেও ফজলু জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় প্রচণ্ড বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর আশপাশের লোকজন বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ফজলুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা করে মৃত বলে নিশ্চিত হন। এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় প্রায়ই বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলেও অনেক কৃষক জীবিকার তাগিদে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। তারা কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলা এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করার আহ্বান জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাজাহান আলী বলেন, কাচনা হরিন্দা গ্রামে জমি চাষ করার সময় বজ্রপাতে ফজলু নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা খোলা মাঠে কাজ করার সময় মানুষ বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বড় গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : ঠাকুরগাঁও সংবাদ বজ্রপাতে মৃত্যু

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় কৃষিজমিতে হাল চাষ করার সময় বজ্রপাতে ফজলু (৩৮) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কাচনা হরিন্দা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ফজলু কাচনা হরিন্দা গ্রামের বাসিন্দা মহশিন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং কৃষিকাজের মাধ্যমেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করতে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা ছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যেও ফজলু জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় প্রচণ্ড বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর আশপাশের লোকজন বিকট শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ফজলুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা করে মৃত বলে নিশ্চিত হন। এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় প্রায়ই বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলেও অনেক কৃষক জীবিকার তাগিদে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। তারা কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলা এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করার আহ্বান জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাজাহান আলী বলেন, কাচনা হরিন্দা গ্রামে জমি চাষ করার সময় বজ্রপাতে ফজলু নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা খোলা মাঠে কাজ করার সময় মানুষ বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বড় গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন