নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত বিগত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। গাফিলতির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
গত রোববার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্দেশ জারি করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গঠিত এই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন:
১. উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, কিশোরগঞ্জ
২. উপজেলা সহকারী পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জ
৩. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, কিশোরগঞ্জ
কমিটিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পেছনে কাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বা গাফিলতি ছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। একই সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের নাম ও ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকাল ১০টায় বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের মূল প্রশ্নপত্রের বদলে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদাসীনতায় টানা ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সেই ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা চালিয়ে যায় পরীক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমে ‘নীলফামারীতে আগের বছরের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, পৌনে ২ ঘণ্টা পর ধরা পড়ল ভুল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সুশীল সমাজ ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই প্রশ্নপত্রের সাল দেখে তারা হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা তা পাত্তাই দেননি। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা পর ভুল ধরা পড়লে তড়িঘড়ি করে খাতা ও প্রশ্ন বদলে নতুন ২০২৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। তবে একই সময়ে দুইবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমা ও বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন:
"ঘটনার সত্যতা নিরূপণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতেই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত বিগত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। গাফিলতির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
গত রোববার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্দেশ জারি করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গঠিত এই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন:
১. উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, কিশোরগঞ্জ
২. উপজেলা সহকারী পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জ
৩. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, কিশোরগঞ্জ
কমিটিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পেছনে কাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বা গাফিলতি ছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। একই সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের নাম ও ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকাল ১০টায় বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের মূল প্রশ্নপত্রের বদলে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদাসীনতায় টানা ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সেই ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা চালিয়ে যায় পরীক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে গণমাধ্যমে ‘নীলফামারীতে আগের বছরের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, পৌনে ২ ঘণ্টা পর ধরা পড়ল ভুল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সুশীল সমাজ ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই প্রশ্নপত্রের সাল দেখে তারা হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা তা পাত্তাই দেননি। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা পর ভুল ধরা পড়লে তড়িঘড়ি করে খাতা ও প্রশ্ন বদলে নতুন ২০২৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। তবে একই সময়ে দুইবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমা ও বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন:
"ঘটনার সত্যতা নিরূপণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতেই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন