রংপুর    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ

সিভি হাতে হাটে হাটে ঘুরে ৪০০ বিয়ে দেওয়া সেই প্রবীণ নারী এশরা বেগমের জীবনযুদ্ধ কেমন কাটছে?

সিভি হাতে হাটে হাটে ঘুরে ৪০০ বিয়ে দেওয়া সেই প্রবীণ নারী এশরা বেগমের জীবনযুদ্ধ কেমন কাটছে?
ছবি: সংগৃহীত

হাতে কিছু জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আর মনে মানুষকে মেলানোর তাগিদ—বয়সের ভারে কিছুটা ঝুঁকে পড়লেও গত ২৮ বছর ধরে ঠিক এভাবেই ছুটে চলেছেন রংপুরের তারাগঞ্জের এশরা বেগম। সমাজের চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে পুরুষশাসিত ঘটকালি পেশায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে তিনি সম্পন্ন করেছেন চার শতাধিক সফল বিয়ে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সাধারণ মুসলিম পরিবারের সন্তান, তেমনি রয়েছে ৩০টি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ঘর বাঁধার আনন্দও। তবে প্রযুক্তির জয়জয়কার আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন এই পেশায় ভাটা পড়েছে, তখনও ভালোবাসার টানে এই ব্রত আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।

১৯৯৬ সালের দিকে পারিবারিক অভাব অনটন আর স্বামীর ভ্যান চুরির দুঃখকে পুঁজি করে নন্দাইয়ের উৎসাহে প্রথম ঘটকালি শুরু করেছিলেন এশরা। মাহিগঞ্জের এক কাপড় ব্যবসায়ীর প্রথম সফল সম্বন্ধ মেলানোর পর থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এমনকি যে পরিবারের মা-বাবার বিয়ে তিনি দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাঁদের সন্তানদের বিয়ের জন্যও ডাক পড়েছে তাঁর কাছে। সময়ের পরিক্রমায় বিয়ের ধরন বদলেছে; এখন শুধু পরিবারের মুরুব্বিদের পছন্দ নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে পাত্র-পাত্রী বিশেষ করে মেয়েদের নিজস্ব মতামত।

এশরা বেগম

ফলে দুই পক্ষের চাহিদা মেলাতে ঘটকদের আগের চেয়ে অনেক বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়।

তবে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই পেশা চালিয়ে যাওয়া এশরা বেগমের জন্য সহজ নয়। ফেসবুক, মুঠোফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ এখন নিজেরাই পাত্র-পাত্রী খুঁজে নেয়। অনেক সময় দুই পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর তারা নিজেরা যোগাযোগ করে বিয়ে সেরে ফেললেও এশরাকে পারিশ্রমিক তো দূরের কথা, পকেট থেকে খরচ হওয়া যাতায়াত ভাড়াও দেওয়া হয় না। মাসের পর মাস ঘুরে এক-দুটি বিয়ে মেলানো কষ্টকর হলেও সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব।

তবুও কোনো কিছুতেই যেন দমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। মানুষের জীবনে সুসম্পর্ক তৈরি করে দেওয়ার যে আত্মিক আনন্দ, তা তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় ইকরচালী হাট কিংবা মানুষের দ্বারে দ্বারে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মেলবন্ধনের কাজটি ভালোবেসে করে যেতে চান এশরা বেগম।

বিষয় : তারাগঞ্জ রংপুরের খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


সিভি হাতে হাটে হাটে ঘুরে ৪০০ বিয়ে দেওয়া সেই প্রবীণ নারী এশরা বেগমের জীবনযুদ্ধ কেমন কাটছে?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

হাতে কিছু জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আর মনে মানুষকে মেলানোর তাগিদ—বয়সের ভারে কিছুটা ঝুঁকে পড়লেও গত ২৮ বছর ধরে ঠিক এভাবেই ছুটে চলেছেন রংপুরের তারাগঞ্জের এশরা বেগম। সমাজের চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে পুরুষশাসিত ঘটকালি পেশায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে তিনি সম্পন্ন করেছেন চার শতাধিক সফল বিয়ে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সাধারণ মুসলিম পরিবারের সন্তান, তেমনি রয়েছে ৩০টি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ঘর বাঁধার আনন্দও। তবে প্রযুক্তির জয়জয়কার আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন এই পেশায় ভাটা পড়েছে, তখনও ভালোবাসার টানে এই ব্রত আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।

১৯৯৬ সালের দিকে পারিবারিক অভাব অনটন আর স্বামীর ভ্যান চুরির দুঃখকে পুঁজি করে নন্দাইয়ের উৎসাহে প্রথম ঘটকালি শুরু করেছিলেন এশরা। মাহিগঞ্জের এক কাপড় ব্যবসায়ীর প্রথম সফল সম্বন্ধ মেলানোর পর থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এমনকি যে পরিবারের মা-বাবার বিয়ে তিনি দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাঁদের সন্তানদের বিয়ের জন্যও ডাক পড়েছে তাঁর কাছে। সময়ের পরিক্রমায় বিয়ের ধরন বদলেছে; এখন শুধু পরিবারের মুরুব্বিদের পছন্দ নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে পাত্র-পাত্রী বিশেষ করে মেয়েদের নিজস্ব মতামত।

এশরা বেগম

ফলে দুই পক্ষের চাহিদা মেলাতে ঘটকদের আগের চেয়ে অনেক বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়।

তবে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই পেশা চালিয়ে যাওয়া এশরা বেগমের জন্য সহজ নয়। ফেসবুক, মুঠোফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ এখন নিজেরাই পাত্র-পাত্রী খুঁজে নেয়। অনেক সময় দুই পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর তারা নিজেরা যোগাযোগ করে বিয়ে সেরে ফেললেও এশরাকে পারিশ্রমিক তো দূরের কথা, পকেট থেকে খরচ হওয়া যাতায়াত ভাড়াও দেওয়া হয় না। মাসের পর মাস ঘুরে এক-দুটি বিয়ে মেলানো কষ্টকর হলেও সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব।

তবুও কোনো কিছুতেই যেন দমে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি। মানুষের জীবনে সুসম্পর্ক তৈরি করে দেওয়ার যে আত্মিক আনন্দ, তা তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় ইকরচালী হাট কিংবা মানুষের দ্বারে দ্বারে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মেলবন্ধনের কাজটি ভালোবেসে করে যেতে চান এশরা বেগম।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ