বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাজহারুল ইসলাম সুজন। শনিবার (৩০ মে) সকালে তিনি কারাগার থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে বিকেল ৩টায় বাবার জানাজায় অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাতবার নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিতে তাকে এ প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জানাজার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার কারাগারে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে জানাজায় অংশ নিয়ে সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, আমার বাবা সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৫ বছর এই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। উনার যদি কোনো ভুলত্রুটি থাকে তাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন আমার বাবা।
প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজা শনিবার বিকেল ৩টায় শহিদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
দবিরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বড়বাড়ী ইউনিয়নের তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
রাজনীতির শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালে সিপিবি ছেড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে তিনি মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন তিনি। এরপর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) মনোনয়নে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তার পরিবারের মধ্যে বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ওই বছরের ৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর চলতি বছরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয় : গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন