জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলকে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিলে, সেটি কখনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি এর আগে আমাদের বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান রেখেছি, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট লং মার্চের ডাক দিচ্ছে আর আওয়ামী লীগ এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে। সুতরাং জামায়াতের প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবে আপনারা এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, শেখ হাসিনা এবং তার তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।
জামায়াতে ইসলামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নির্মূলে বাধা দিচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন ওসি বক্তব্যে বলছেন—পুলিশ এতটাই দুর্বল শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে না, এর আগেও ফিরে আসলে এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। এর মানে ১৬ বছরে যেভাবে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পারেনি। যে কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে আমরা লক্ষ্য করছি যে, রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত, তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আমি বলছি না তারা আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে। বরং আমরা যতটুকু তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত যেহেতু রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত, সেই সুযোগ নিতে চায় আওয়ামী লীগ।
রাশেদ খাঁন বলেন, এই সরকারের বয়স সাত মাসে পড়েছে। গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মাধ্যমে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী করছে। তারা আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি লং মার্চ করা যায় না। জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সেও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চায়। এই কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহ রয়েছে, ১৯৯৬ সালে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ঠিক একইভাবে। এখন তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কিনা—এই প্রশ্ন জনগণের মনের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে জামায়াতে ইসলামী লাভবান হতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা চায়—জামায়াত রাজপথে হঠকারিতা করে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিক। অর্থাৎ রাজপথকে অশান্ত করুক, সেই অশান্তির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটবে আওয়ামী লীগ। সুতরাং জামায়াতসহ ১১ দলকে বলবো আপনারা রংপুরে যে লং মার্চ নিয়ে আসছেন, যদি প্রকৃতপক্ষেই জনবান্ধব কর্মসূচি হয়ে তাহলে ঢাকা থেকে হেঁটে রংপুরে আসুন।
এ সময় নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খাঁন বলেন, ১১ দলীয় জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চ করছেন। লং মার্চের সমাবেশে খিলখিলয়ে হাসছেন, উস্কানি দিচ্ছেন। জামায়াতকে বলবো, এমন উস্কানি লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে রংপুরে আসবেন এমন প্রত্যাশা করি না।
লং মার্চ নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের ৭টি দাবিতে রাস্তাঘাট বন্ধ করে লং মার্চ করার প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পুরো একদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরেও একই অবস্থা হবে। এভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে জনগণের উপকার করতে চান। হরতাল না দিলেও লং মার্চে রাস্তাঘাট বন্ধ করা সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা, জ্বালানির অপচয় করা, আওয়ামী লীগকে উস্কে দিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ঢাকা-রংপুর লং মার্চকে ঘিরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের লং মার্চ অযৌক্তিক হলেও সরকার ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করে বলে বিএনপি ও সরকার এ লংমার্চে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যরা।
এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান। এ সময় তার সঙ্গে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রাশেদ খাঁন বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দুই খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এর প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পড়েছে, যেখানে আগের তুলনায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অতীতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পাবে।
পরিদর্শনকালে রাশেদ খাঁন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিষয় : আওয়ামী লীগ রাশেদ খাঁন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলকে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিলে, সেটি কখনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি এর আগে আমাদের বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান রেখেছি, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট লং মার্চের ডাক দিচ্ছে আর আওয়ামী লীগ এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে। সুতরাং জামায়াতের প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবে আপনারা এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, শেখ হাসিনা এবং তার তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।
জামায়াতে ইসলামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নির্মূলে বাধা দিচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন ওসি বক্তব্যে বলছেন—পুলিশ এতটাই দুর্বল শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে না, এর আগেও ফিরে আসলে এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। এর মানে ১৬ বছরে যেভাবে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পারেনি। যে কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে আমরা লক্ষ্য করছি যে, রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত, তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আমি বলছি না তারা আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে। বরং আমরা যতটুকু তথ্য পাচ্ছি, জামায়াত যেহেতু রাজনৈতিকভাবে একটি হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত, সেই সুযোগ নিতে চায় আওয়ামী লীগ।
রাশেদ খাঁন বলেন, এই সরকারের বয়স সাত মাসে পড়েছে। গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মাধ্যমে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী করছে। তারা আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি লং মার্চ করা যায় না। জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সেও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চায়। এই কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহ রয়েছে, ১৯৯৬ সালে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ঠিক একইভাবে। এখন তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কিনা—এই প্রশ্ন জনগণের মনের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে জামায়াতে ইসলামী লাভবান হতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা চায়—জামায়াত রাজপথে হঠকারিতা করে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিক। অর্থাৎ রাজপথকে অশান্ত করুক, সেই অশান্তির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটবে আওয়ামী লীগ। সুতরাং জামায়াতসহ ১১ দলকে বলবো আপনারা রংপুরে যে লং মার্চ নিয়ে আসছেন, যদি প্রকৃতপক্ষেই জনবান্ধব কর্মসূচি হয়ে তাহলে ঢাকা থেকে হেঁটে রংপুরে আসুন।
এ সময় নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খাঁন বলেন, ১১ দলীয় জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চ করছেন। লং মার্চের সমাবেশে খিলখিলয়ে হাসছেন, উস্কানি দিচ্ছেন। জামায়াতকে বলবো, এমন উস্কানি লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে রংপুরে আসবেন এমন প্রত্যাশা করি না।
লং মার্চ নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের ৭টি দাবিতে রাস্তাঘাট বন্ধ করে লং মার্চ করার প্রয়োজন নেই। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পুরো একদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা বন্ধ রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরেও একই অবস্থা হবে। এভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে জনগণের উপকার করতে চান। হরতাল না দিলেও লং মার্চে রাস্তাঘাট বন্ধ করা সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা, জ্বালানির অপচয় করা, আওয়ামী লীগকে উস্কে দিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ঢাকা-রংপুর লং মার্চকে ঘিরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের লং মার্চ অযৌক্তিক হলেও সরকার ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করে বলে বিএনপি ও সরকার এ লংমার্চে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যরা।
এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান। এ সময় তার সঙ্গে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে রাশেদ খাঁন বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দুই খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। এর প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পড়েছে, যেখানে আগের তুলনায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অতীতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পাবে।
পরিদর্শনকালে রাশেদ খাঁন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন