বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পায়ে গুলি নিয়ে হ্যান্ড ক্রাচে ভর দিয়ে ঘুরছেন পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী। কিন্তু সেই গুলির দায়ে অভিযুক্ত রংপুরের তৎকালীন ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও থানাপ্রধানসহ ছয় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে রেহাই দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছিল পিবিআই। তবে বাদীর তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াইয়ের মুখে সেই প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি এবার আদালতের কড়া নজরদারিতে স্থানান্তরিত হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা পুরো ঘটনার পুনঃতদন্ত করবেন।
২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আন্দোলন চলাকালে রংপুরের রাস্তায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন ৫০ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী। পরবর্তীতে তিনি সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন, সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ও কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি মোসতাসিন বিল্লাহসহ ৬ জন প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
পিবিআই তদন্ত শেষে জানায়—জাহাঙ্গীর যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার মেডিকেল প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু ‘কার নির্দেশে বা কার গুলিতে’ তিনি আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই যুক্তিতে সব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল হাদী বেলাল। তিনি বলেন:
"ডিআইজি বা পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার হাই-প্রোফাইল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন নিম্নপদস্থ ইন্সপেক্টরকে (পরিদর্শক)। এমন অসম পদের তদন্তে নিরপেক্ষ ফলাফল আসা অসম্ভব। তাই আমরা পুনঃতদন্ত দাবি করেছিলাম।"
পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে সরাসরি ‘নারাজি’ আবেদন দাখিল করেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর। দীর্ঘ আইনি শুনানির পর আদালত বাদীর যুক্তিসংগত আপত্তি গ্রহণ করেন।
হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী বলেন:
"আমার শরীরে এখনও গুলির ক্ষত। রাতে ব্যথায় ঘুমাতে পারি না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। গুলির প্রমাণ ও হাসপাতালের সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও সব প্রভাবশালী আসামিকে বাদ দিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। আমি শুধু সুবিচার চাই।"
আদালতের এই নতুন আদেশের পর সিআইডির তদন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতার আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পায়ে গুলি নিয়ে হ্যান্ড ক্রাচে ভর দিয়ে ঘুরছেন পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী। কিন্তু সেই গুলির দায়ে অভিযুক্ত রংপুরের তৎকালীন ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও থানাপ্রধানসহ ছয় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে রেহাই দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছিল পিবিআই। তবে বাদীর তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াইয়ের মুখে সেই প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি এবার আদালতের কড়া নজরদারিতে স্থানান্তরিত হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা পুরো ঘটনার পুনঃতদন্ত করবেন।
২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আন্দোলন চলাকালে রংপুরের রাস্তায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন ৫০ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী। পরবর্তীতে তিনি সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন, সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ও কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি মোসতাসিন বিল্লাহসহ ৬ জন প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
পিবিআই তদন্ত শেষে জানায়—জাহাঙ্গীর যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার মেডিকেল প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু ‘কার নির্দেশে বা কার গুলিতে’ তিনি আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই যুক্তিতে সব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল হাদী বেলাল। তিনি বলেন:
"ডিআইজি বা পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার হাই-প্রোফাইল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন নিম্নপদস্থ ইন্সপেক্টরকে (পরিদর্শক)। এমন অসম পদের তদন্তে নিরপেক্ষ ফলাফল আসা অসম্ভব। তাই আমরা পুনঃতদন্ত দাবি করেছিলাম।"
পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে সরাসরি ‘নারাজি’ আবেদন দাখিল করেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর। দীর্ঘ আইনি শুনানির পর আদালত বাদীর যুক্তিসংগত আপত্তি গ্রহণ করেন।
হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী বলেন:
"আমার শরীরে এখনও গুলির ক্ষত। রাতে ব্যথায় ঘুমাতে পারি না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। গুলির প্রমাণ ও হাসপাতালের সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও সব প্রভাবশালী আসামিকে বাদ দিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল। আমি শুধু সুবিচার চাই।"
আদালতের এই নতুন আদেশের পর সিআইডির তদন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতার আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা।

আপনার মতামত লিখুন