রংপুর    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরে ফুলবাড়ী কয়লাখনি ফের চালুর পরিকল্পনা সরকারের

দিনাজপুরে ফুলবাড়ী কয়লাখনি ফের চালুর পরিকল্পনা সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পটি নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে প্রায় দুই দশক আগে এই খনির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। তবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে এবং আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাজ্য ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নতুন রূপরেখা সামনে এসেছে।

কয়লা আমদানিতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ১৫০ কোটি ডলার। জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে স্থাপিত সাত হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি টন কয়লা বিদেশ থেকে আনতে হয়। ভূতাত্ত্বিক তথ্যমতে, দেশের পাঁচটি খনিতে প্রায় ৭৮০ কোটি টন কয়লার মজুত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একমাত্র বড়পুকুরিয়ায় ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে সীমিত উত্তোলন ছাড়া বাকি চারটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতেই সরকার নিজস্ব খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান জিসিএম রিসোর্সেস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলন এবং সেখানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে এশিয়া এনার্জি নামে পরিচিত ছিল। চুক্তি অনুযায়ী চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি খননের কাজ করবে। প্রস্তাবিত এই খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে, যার ৮০ শতাংশই খোলা জমি বলে দাবি করেছে জিসিএম।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ভূতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, ফুলবাড়ীতে প্রায় ৫৭ কোটি টন কয়লার মজুত রয়েছে, যেখান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টন কয়লা তোলা সম্ভব। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি যুক্ত হবে। এছাড়া পুরো প্রকল্প মেয়াদে কর, রয়্যালটি ও বিভিন্ন ফি বাবদ সরকার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব পাবে এবং অন্তত ১৭ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তবে বিপুল এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিপরীতে পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্তারিত বাস্তবায়নযোগ্য সমীক্ষা চালাতে হবে। প্রযুক্তিগত আধুনিক সমাধান থাকলেও এর পেছনে একটি বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে, যা সরকারকে সাবধানতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এত বিশাল এলাকার মানুষের পুনর্বাসন এবং প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিষয় : দিনাজপুরের খবর ফুলবাড়ী কয়লাখনি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিনাজপুরে ফুলবাড়ী কয়লাখনি ফের চালুর পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পটি নতুন করে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে প্রায় দুই দশক আগে এই খনির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। তবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে এবং আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাজ্য ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নতুন রূপরেখা সামনে এসেছে।

কয়লা আমদানিতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ১৫০ কোটি ডলার। জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে স্থাপিত সাত হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি টন কয়লা বিদেশ থেকে আনতে হয়। ভূতাত্ত্বিক তথ্যমতে, দেশের পাঁচটি খনিতে প্রায় ৭৮০ কোটি টন কয়লার মজুত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একমাত্র বড়পুকুরিয়ায় ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে সীমিত উত্তোলন ছাড়া বাকি চারটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতেই সরকার নিজস্ব খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান জিসিএম রিসোর্সেস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলন এবং সেখানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে এশিয়া এনার্জি নামে পরিচিত ছিল। চুক্তি অনুযায়ী চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি খননের কাজ করবে। প্রস্তাবিত এই খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে, যার ৮০ শতাংশই খোলা জমি বলে দাবি করেছে জিসিএম।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ভূতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, ফুলবাড়ীতে প্রায় ৫৭ কোটি টন কয়লার মজুত রয়েছে, যেখান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টন কয়লা তোলা সম্ভব। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি যুক্ত হবে। এছাড়া পুরো প্রকল্প মেয়াদে কর, রয়্যালটি ও বিভিন্ন ফি বাবদ সরকার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব পাবে এবং অন্তত ১৭ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তবে বিপুল এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিপরীতে পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্তারিত বাস্তবায়নযোগ্য সমীক্ষা চালাতে হবে। প্রযুক্তিগত আধুনিক সমাধান থাকলেও এর পেছনে একটি বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে, যা সরকারকে সাবধানতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এত বিশাল এলাকার মানুষের পুনর্বাসন এবং প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ