ভৌগোলিক কারণে প্রতি বছরই নদের তাণ্ডবে ভিটেমাটি হারায় গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি আর নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোর কাছে ঘর মানেই সাময়িক এক আশ্রয়। তবে সেই অনিশ্চিত জীবনের মোড় ঘোরাতে ব্রহ্মপুত্রের বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিধাই গ্রামে এবার দাঁড়িয়ে গেছে জলবায়ু-সহনশীল ও সহজেই স্থানান্তরযোগ্য স্থাপত্যিক বিস্ময়—‘খুদি বাড়ি’।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের সংস্থা ‘ফেস’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে চরের বুকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলো এই মডেল ঘর।
চরাঞ্চলে চিরাচরিত ঘরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—ভাঙনের মুখে পড়লে তা রক্ষা করা যায় না। তবে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি বাঁশ ও ধাতব জয়েন্টের ১৩ ফুট উঁচু এই বিশেষ দোতলা ঘরটি সহজেই নাট-বল্টু খুলে আলাদা করা যায়।
নদীভাঙন শুরু হলে বা তীব্র বন্যা এলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো কাঠামো খুলে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে পুনরায় সংযোজন করা সম্ভব।
বর্ষায় ভেলায় ভেসে দিন কাটানো সাজেদা বেগম মহতী এ কাজের জন্য নিঃশর্তভাবে নিজের জমি দান করেছেন। ১০ বাই ১০ ফুটের এই দোতলা কাঠামোয় বন্যার চরম মুহূর্তে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন মানুষ নিরাপদে দিনযাপন করতে পারবেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘যুব নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন’ প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে জমা পড়া ১৪৭টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্যে স্থান করে নেয় গাইবান্ধার এই প্রকল্পটি। অ্যাকশনএইডের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং উদ্যমী তরুণদের নিজস্ব ২০ হাজার টাকার অর্থায়নে টানা পাঁচ দিনের নিবিড় শ্রমে দাঁড়িয়ে যায় নিরাপদ এই আশ্রয়।
সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. মেহেদী হাসান বলেন:
"আমরা শুধু একটি ঘর বানাইনি, চরের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার একটি মডেল তৈরি করেছি। যেখানে সরকারি বা বেসরকারি বিশাল বাজেটের আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে এমন স্বল্পব্যয়ী ‘খুদি বাড়ি’ চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারকে নতুন জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।"
চরাঞ্চলের দুস্থ ও পানিবন্দী মানুষের কাছে এখন ‘খুদি বাড়ি’ কেবল একটি বসতঘর নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক নতুন প্রতীক।
বিষয় : গাইবান্ধা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ভৌগোলিক কারণে প্রতি বছরই নদের তাণ্ডবে ভিটেমাটি হারায় গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি আর নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোর কাছে ঘর মানেই সাময়িক এক আশ্রয়। তবে সেই অনিশ্চিত জীবনের মোড় ঘোরাতে ব্রহ্মপুত্রের বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিধাই গ্রামে এবার দাঁড়িয়ে গেছে জলবায়ু-সহনশীল ও সহজেই স্থানান্তরযোগ্য স্থাপত্যিক বিস্ময়—‘খুদি বাড়ি’।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের সংস্থা ‘ফেস’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে চরের বুকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলো এই মডেল ঘর।
চরাঞ্চলে চিরাচরিত ঘরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—ভাঙনের মুখে পড়লে তা রক্ষা করা যায় না। তবে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি বাঁশ ও ধাতব জয়েন্টের ১৩ ফুট উঁচু এই বিশেষ দোতলা ঘরটি সহজেই নাট-বল্টু খুলে আলাদা করা যায়।
নদীভাঙন শুরু হলে বা তীব্র বন্যা এলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো কাঠামো খুলে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে পুনরায় সংযোজন করা সম্ভব।
বর্ষায় ভেলায় ভেসে দিন কাটানো সাজেদা বেগম মহতী এ কাজের জন্য নিঃশর্তভাবে নিজের জমি দান করেছেন। ১০ বাই ১০ ফুটের এই দোতলা কাঠামোয় বন্যার চরম মুহূর্তে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন মানুষ নিরাপদে দিনযাপন করতে পারবেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘যুব নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন’ প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে জমা পড়া ১৪৭টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্যে স্থান করে নেয় গাইবান্ধার এই প্রকল্পটি। অ্যাকশনএইডের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং উদ্যমী তরুণদের নিজস্ব ২০ হাজার টাকার অর্থায়নে টানা পাঁচ দিনের নিবিড় শ্রমে দাঁড়িয়ে যায় নিরাপদ এই আশ্রয়।
সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. মেহেদী হাসান বলেন:
"আমরা শুধু একটি ঘর বানাইনি, চরের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার একটি মডেল তৈরি করেছি। যেখানে সরকারি বা বেসরকারি বিশাল বাজেটের আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে এমন স্বল্পব্যয়ী ‘খুদি বাড়ি’ চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারকে নতুন জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।"
চরাঞ্চলের দুস্থ ও পানিবন্দী মানুষের কাছে এখন ‘খুদি বাড়ি’ কেবল একটি বসতঘর নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক নতুন প্রতীক।

আপনার মতামত লিখুন