দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীর ঐতিহ্যবাহী ‘কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম’। বর্ষা পার হতেই অভয়াশ্রমে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে পানি, দেখা দিয়েছে তীব্র প্রাকৃতিক খাদ্যসংকট। ফলে এখানে থাকা ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের হাজার হাজার বড় রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড় ও চিতলসহ বিপন্ন দেশীয় প্রজাতির মা মাছ এখন অস্তিত্ব রক্ষায় ওপরের পানিতে ভেসে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।
২০০১ সালে দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণে বনুয়াপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর আঁকাবাঁকা বাঁকে গড়ে ওঠা এই অভয়াশ্রমটি সময়মতো সংস্কার না করায় উত্তরাঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে।
অভয়াশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল করিম ও সহসভাপতি এন্তাজুল হক আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ দুই দশক ধরে মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের যৌথ পাহারায় এখানে বিশালাকার সব মা মাছ নির্বিঘ্নে বড় হয়ে উঠছিল। রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, চিতল, কই, ট্যাংরা ও পুটি মাছ প্রজনন মৌসুমে পুরো নদীতে ছড়িয়ে ডিম ছেড়ে আবার এই অভয়াশ্রমে ফিরে আসত।
কিন্তু পলি জমায় অভয়াশ্রমে পানির গভীরতা কমে তলানিতে ঠেকেছে। প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় মাছগুলো স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন করতে পারছে না।
পীরগঞ্জ ‘সুজন’-এর সভাপতি নসরতে খোদা রানা বলেন:
"কদমতলী অভয়াশ্রমটি না বাঁচালে পুরো পীরগঞ্জ ও আশেপাশের খাল-বিল, নদী-নালায় দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছের যে প্রাচুর্য তা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এটি এ অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রধান শক্তিকেন্দ্র।"
সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে পীরগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আয়শা আকতার জানান, দীর্ঘদিন খনন না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সাময়িকভাবে মা মাছগুলোর জন্য অতিরিক্ত কৃত্রিম খাদ্য সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক শাহনেওয়াজ সিরাজী ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার।
তাছাড়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান:
"জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও দেশীয় মাছের প্রজনন বজায় রাখতে অভয়াশ্রমটি বাঁচানো জরুরি। অনতিবিলম্বে মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউএনওকে এলাকাটি পরিদর্শন করে পূর্ণাঙ্গ খনন প্রকল্প প্রস্তাব ও সহায়তার তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
বিষয় : ঠাকুরগাঁও সংবাদ পীরগঞ্জ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীর ঐতিহ্যবাহী ‘কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম’। বর্ষা পার হতেই অভয়াশ্রমে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে পানি, দেখা দিয়েছে তীব্র প্রাকৃতিক খাদ্যসংকট। ফলে এখানে থাকা ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের হাজার হাজার বড় রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড় ও চিতলসহ বিপন্ন দেশীয় প্রজাতির মা মাছ এখন অস্তিত্ব রক্ষায় ওপরের পানিতে ভেসে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।
২০০১ সালে দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণে বনুয়াপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর আঁকাবাঁকা বাঁকে গড়ে ওঠা এই অভয়াশ্রমটি সময়মতো সংস্কার না করায় উত্তরাঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে।
অভয়াশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল করিম ও সহসভাপতি এন্তাজুল হক আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ দুই দশক ধরে মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের যৌথ পাহারায় এখানে বিশালাকার সব মা মাছ নির্বিঘ্নে বড় হয়ে উঠছিল। রুই, কাতলা, বোয়াল, আইড়, চিতল, কই, ট্যাংরা ও পুটি মাছ প্রজনন মৌসুমে পুরো নদীতে ছড়িয়ে ডিম ছেড়ে আবার এই অভয়াশ্রমে ফিরে আসত।
কিন্তু পলি জমায় অভয়াশ্রমে পানির গভীরতা কমে তলানিতে ঠেকেছে। প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় মাছগুলো স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন করতে পারছে না।
পীরগঞ্জ ‘সুজন’-এর সভাপতি নসরতে খোদা রানা বলেন:
"কদমতলী অভয়াশ্রমটি না বাঁচালে পুরো পীরগঞ্জ ও আশেপাশের খাল-বিল, নদী-নালায় দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছের যে প্রাচুর্য তা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এটি এ অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রধান শক্তিকেন্দ্র।"
সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে পীরগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আয়শা আকতার জানান, দীর্ঘদিন খনন না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সাময়িকভাবে মা মাছগুলোর জন্য অতিরিক্ত কৃত্রিম খাদ্য সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক শাহনেওয়াজ সিরাজী ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার।
তাছাড়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান:
"জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও দেশীয় মাছের প্রজনন বজায় রাখতে অভয়াশ্রমটি বাঁচানো জরুরি। অনতিবিলম্বে মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউএনওকে এলাকাটি পরিদর্শন করে পূর্ণাঙ্গ খনন প্রকল্প প্রস্তাব ও সহায়তার তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন