রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাংলাচড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের সাতটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, খাদ্যশস্য, তামাক, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি গরু গুরুতর দগ্ধ হয়েছে এবং দুটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুই ভাইয়ের পরিবার। গতকাল বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাংলাচড়া গ্রামের নিরঞ্জন রায়ের দুই ছেলে—কৃষক লিটন রায় ও পল্লী চিকিৎসক মিলন রায়ের পরিবারের মোট সাতটি কাঁচা বসতঘর মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এর মধ্যে লিটন রায়ের তিনটি এবং মিলন রায়ের চারটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত ঘরে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে ছুটে এসে প্রাণপণ চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুই পরিবারের সাতটি বসতঘর ও গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী চিকিৎসক মিলন রায় জানান, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রী সরস্বতী রানি, বড় মেয়ে পূজা রায় (১৪) ও ছোট মেয়ে প্রদন্তি রায়কে (৩) নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ছোট ভাইয়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে বাইরে বের হয়ে দেখেন আগুন দ্রুত তাদের ঘরের দিকে ধেয়ে আসছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন:
"মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন আমার দুটি বসতঘর ও একটি গোয়ালঘর গ্রাস করে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রায় আট মণ তামাক, ৩০ মণ ধান, নগদ ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে। আমার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"
অপর ক্ষতিগ্রস্ত লিটন রায় জানান, রাত দেড়টার দিকে একজন রোগী দেখে বাড়ি ফিরে তিনি নিজের ঘরে ছিলেন। হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের অক্ষত উদ্ধার করতে পারলেও কোনো মালামাল সরাতে পারেননি। তাঁর তিনটি ঘরসহ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঘরটিও পুড়ে গেছে। গোয়ালে থাকা তিনটি গরু দগ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে একটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দুটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের সাতটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ছবি: জুফাস নিউজ
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আগামী কয়েকদিন পর তাদের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এজন্য তাঁরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং আশা (এনজিও) থেকে ৩৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের সেই পুরো অর্থ এবং অনুষ্ঠানের জন্য কেনা প্রায় ৪০ হাজার টাকার বাজারসামগ্রী, পাঁচ মণ আদার বীজ ও ১২ মণ হলুদও আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে পরিবার দুটি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে থাকা এই পরিবার দুটির পুনর্বাসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিও বেঁচে থাকার তাগিদে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাংলাচড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের সাতটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, খাদ্যশস্য, তামাক, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি গরু গুরুতর দগ্ধ হয়েছে এবং দুটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুই ভাইয়ের পরিবার। গতকাল বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাংলাচড়া গ্রামের নিরঞ্জন রায়ের দুই ছেলে—কৃষক লিটন রায় ও পল্লী চিকিৎসক মিলন রায়ের পরিবারের মোট সাতটি কাঁচা বসতঘর মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এর মধ্যে লিটন রায়ের তিনটি এবং মিলন রায়ের চারটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত ঘরে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে ছুটে এসে প্রাণপণ চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুই পরিবারের সাতটি বসতঘর ও গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী চিকিৎসক মিলন রায় জানান, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রী সরস্বতী রানি, বড় মেয়ে পূজা রায় (১৪) ও ছোট মেয়ে প্রদন্তি রায়কে (৩) নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ছোট ভাইয়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে বাইরে বের হয়ে দেখেন আগুন দ্রুত তাদের ঘরের দিকে ধেয়ে আসছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন:
"মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন আমার দুটি বসতঘর ও একটি গোয়ালঘর গ্রাস করে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রায় আট মণ তামাক, ৩০ মণ ধান, নগদ ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে। আমার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"
অপর ক্ষতিগ্রস্ত লিটন রায় জানান, রাত দেড়টার দিকে একজন রোগী দেখে বাড়ি ফিরে তিনি নিজের ঘরে ছিলেন। হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের অক্ষত উদ্ধার করতে পারলেও কোনো মালামাল সরাতে পারেননি। তাঁর তিনটি ঘরসহ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঘরটিও পুড়ে গেছে। গোয়ালে থাকা তিনটি গরু দগ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে একটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দুটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের সাতটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ছবি: জুফাস নিউজ
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আগামী কয়েকদিন পর তাদের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এজন্য তাঁরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং আশা (এনজিও) থেকে ৩৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের সেই পুরো অর্থ এবং অনুষ্ঠানের জন্য কেনা প্রায় ৪০ হাজার টাকার বাজারসামগ্রী, পাঁচ মণ আদার বীজ ও ১২ মণ হলুদও আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে পরিবার দুটি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে থাকা এই পরিবার দুটির পুনর্বাসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিও বেঁচে থাকার তাগিদে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন