রংপুর    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ

‘মাদকের টাকা জোগাতে’ সন্তান বিক্রি, বাবাসহ আটক ৩

‘মাদকের টাকা জোগাতে’ সন্তান বিক্রি, বাবাসহ আটক ৩
প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।। ছবি: সংগৃহীত

মাদকের অর্থ জোগাড়ে গাইবান্ধায় বাবার হাতে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ ওঠা ১১ মাস বয়সি শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলো।

পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক অভিযানে প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার পর হামিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয় বাসের হেলপার মজিদকে। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় মোছা. মোরশেদাকে। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুটির মা রুমানা আক্তারের ভাষ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি।

ঘটনার দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।

সন্তান নিখোঁজ থাকার সময় রুমানা থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে— কিছুই জানি না।

ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটি উদ্ধার হওয়ায় মায়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই হামিদুল নিজের কোলের সন্তানকে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেছিলেন, তারা দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবার। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।

শিশুটি নিখোঁজ থাকা অবস্থায় গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেছিলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


বিষয় : গাইবান্ধার সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘মাদকের টাকা জোগাতে’ সন্তান বিক্রি, বাবাসহ আটক ৩

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মাদকের অর্থ জোগাড়ে গাইবান্ধায় বাবার হাতে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ ওঠা ১১ মাস বয়সি শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলো।

পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক অভিযানে প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার পর হামিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয় বাসের হেলপার মজিদকে। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় মোছা. মোরশেদাকে। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুটির মা রুমানা আক্তারের ভাষ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি।

ঘটনার দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।

সন্তান নিখোঁজ থাকার সময় রুমানা থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে— কিছুই জানি না।

ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটি উদ্ধার হওয়ায় মায়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই হামিদুল নিজের কোলের সন্তানকে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেছিলেন, তারা দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবার। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।

শিশুটি নিখোঁজ থাকা অবস্থায় গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেছিলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।



জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ