রংপুর    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

চিলাহাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করতে মন্ত্রীর উদ্যোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চিলাহাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করতে মন্ত্রীর উদ্যোগ    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

২৫ কিলোমিটার দূরের ডোমার থানায় ছুটতে হয় লক্ষাধিক মানুষকে, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নতুন আশার সঞ্চার

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জনপদ চিলাহাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিনের জনদাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। মন্ত্রীর এ উদ্যোগকে ঘিরে চিলাহাটি, ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত হলে দীর্ঘদিনের পুলিশি সেবা-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নীলফামারী জেলা সফর করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, পুলিশি সেবা গ্রহণের ভোগান্তি এবং চিলাহাটির ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার পাঠান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ওই পত্রে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা, বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের সঙ্গে চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ থানার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বর্তমানে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও পূর্ণাঙ্গ থানার মতো সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন পুলিশি সেবা গ্রহণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ডোমার থানায় যেতে হয়। তদন্ত কেন্দ্র থেকে ডোমার থানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা গ্রহণ, মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম, অভিযোগ দায়ের এবং অন্যান্য পুলিশি সেবা পেতে দূরত্ব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যাতায়াতের অসুবিধা, যানবাহনের ব্যবস্থা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।

চিলাহাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। স্থানীয়দের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হলে পুলিশি সেবা গ্রহণের জন্য আর দূরবর্তী ডোমার থানায় ছুটতে হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশি সাড়া প্রদান, অপরাধীদের শনাক্তকরণ, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ণাঙ্গ থানার ভূমিকা আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনপদে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী পুলিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিলাহাটি শুধু একটি সাধারণ গ্রামীণ জনপদ নয়; এটি ডোমার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে আধুনিক আইকনিক রেলস্টেশন, সরকারি মহাবিদ্যালয়, বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিলাহাটি ফাজিল মাদ্রাসা, বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

চিলাহাটি রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিয়মিত যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে এলাকাটিতে জনসমাগমও উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, জনসাধারণের চলাচল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অন্যদিকে চিলাহাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সীমান্ত এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পূর্ণাঙ্গ থানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবলকে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কেন্দ্রটি প্রায় তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে ডোমার থানার জনবলের প্রায় সমপরিমাণ পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার বাস্তবসম্মত সুযোগ রয়েছে। নতুন করে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে বিদ্যমান সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুবিধা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার দাবিটি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি এ উদ্যোগে সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ দাবিটি মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার পাঠানোর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তাঁদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হলে পুলিশি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দূরত্বজনিত সমস্যা কমবে। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এটি শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়, বরং নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলোর অনেকটাই সমাধান সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।

মন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিলাহাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষাধিক মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সীমান্তবর্তী এ জনপদের নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করা হবে। এতে চিলাহাটির মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে।

বিষয় : নীলফামারীর খবর চিলাহাটির খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


চিলাহাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করতে মন্ত্রীর উদ্যোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

২৫ কিলোমিটার দূরের ডোমার থানায় ছুটতে হয় লক্ষাধিক মানুষকে, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নতুন আশার সঞ্চার

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জনপদ চিলাহাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিনের জনদাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। মন্ত্রীর এ উদ্যোগকে ঘিরে চিলাহাটি, ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত হলে দীর্ঘদিনের পুলিশি সেবা-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নীলফামারী জেলা সফর করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, পুলিশি সেবা গ্রহণের ভোগান্তি এবং চিলাহাটির ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার পাঠান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ওই পত্রে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা, বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের সঙ্গে চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ থানার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বর্তমানে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও পূর্ণাঙ্গ থানার মতো সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন পুলিশি সেবা গ্রহণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ডোমার থানায় যেতে হয়। তদন্ত কেন্দ্র থেকে ডোমার থানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা গ্রহণ, মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম, অভিযোগ দায়ের এবং অন্যান্য পুলিশি সেবা পেতে দূরত্ব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যাতায়াতের অসুবিধা, যানবাহনের ব্যবস্থা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।

চিলাহাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। স্থানীয়দের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হলে পুলিশি সেবা গ্রহণের জন্য আর দূরবর্তী ডোমার থানায় ছুটতে হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশি সাড়া প্রদান, অপরাধীদের শনাক্তকরণ, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ণাঙ্গ থানার ভূমিকা আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনপদে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী পুলিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিলাহাটি শুধু একটি সাধারণ গ্রামীণ জনপদ নয়; এটি ডোমার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে আধুনিক আইকনিক রেলস্টেশন, সরকারি মহাবিদ্যালয়, বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিলাহাটি ফাজিল মাদ্রাসা, বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

চিলাহাটি রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিয়মিত যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে এলাকাটিতে জনসমাগমও উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, জনসাধারণের চলাচল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অন্যদিকে চিলাহাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সীমান্ত এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পূর্ণাঙ্গ থানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবলকে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কেন্দ্রটি প্রায় তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে ডোমার থানার জনবলের প্রায় সমপরিমাণ পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার বাস্তবসম্মত সুযোগ রয়েছে। নতুন করে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে বিদ্যমান সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুবিধা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার দাবিটি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি এ উদ্যোগে সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ দাবিটি মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার পাঠানোর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিলাহাটি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তাঁদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হলে পুলিশি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দূরত্বজনিত সমস্যা কমবে। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।

ভোগডাবুড়ী ও কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এটি শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়, বরং নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে, পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলোর অনেকটাই সমাধান সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।

মন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিলাহাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষাধিক মানুষের পুলিশি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সীমান্তবর্তী এ জনপদের নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করা হবে। এতে চিলাহাটির মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ