রংপুর    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ

ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র চিকিৎসক সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড় থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৩টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে ১৭ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে আবার চারজন দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বাস্তবে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক।

এই ১৩ জনের মধ্যে দুজন ডেন্টাল সার্জন এবং ১১ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন, যাদের একজনকে সামলাতে হচ্ছে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) অতিরিক্ত দায়িত্বও।

হাসপাতালে প্রতিদিন কেবল বহির্বিভাগেই (আউটডোর) প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও প্রায়ই ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সীমিত এই জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

বিশেষ করে শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া ইএনটি (নাক, কান, গলা) বিভাগের চিকিৎসক প্রেষণে থাকায় সাধারণ রোগীরা নিয়মিত বিশেষজ্ঞ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে উপজেলার দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক ওয়াহাব আলী আক্ষেপ করে বলেন, “রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা চাই, এই সরকারি হাসপাতালেই যেন সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।”

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা ডা. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ৩৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, ডিমলায় বর্তমানে কোনো চিকিৎসক সংকট নেই, তবে কিছু কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। ৪৮তম বিসিএসের পর চিকিৎসকের প্রাপ্তি কিছুটা বাড়লেও, প্রেষণে অন্যত্র থেকে ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়।

বিষয় : নীলফামারী ডিমলার খবর চিকিৎসক সংকট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তীব্র চিকিৎসক সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড় থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৩টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে ১৭ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে আবার চারজন দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বাস্তবে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক।

এই ১৩ জনের মধ্যে দুজন ডেন্টাল সার্জন এবং ১১ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন, যাদের একজনকে সামলাতে হচ্ছে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) অতিরিক্ত দায়িত্বও।

হাসপাতালে প্রতিদিন কেবল বহির্বিভাগেই (আউটডোর) প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও প্রায়ই ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সীমিত এই জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

বিশেষ করে শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া ইএনটি (নাক, কান, গলা) বিভাগের চিকিৎসক প্রেষণে থাকায় সাধারণ রোগীরা নিয়মিত বিশেষজ্ঞ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে উপজেলার দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক ওয়াহাব আলী আক্ষেপ করে বলেন, “রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা চাই, এই সরকারি হাসপাতালেই যেন সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।”

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা ডা. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ৩৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, ডিমলায় বর্তমানে কোনো চিকিৎসক সংকট নেই, তবে কিছু কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। ৪৮তম বিসিএসের পর চিকিৎসকের প্রাপ্তি কিছুটা বাড়লেও, প্রেষণে অন্যত্র থেকে ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ