একটি ড্রামের ভেলা আর নিচে গভীর খালের করাল গ্রাস—এই দৃশ্য কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের গত ৯ বছরের নিত্যদিনের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় কামারের ছড়া খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ড্রামের ভেলা। আজও সেই ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন কোনো সেতু না ওঠায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ আশপাশের এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে উৎপাদিত সোনালী ফসল বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে তাদের এখন অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে পরিবহন খরচ। কৃষক আনসার আলীর আক্ষেপ, অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফসল বাজারে নিতে গিয়ে তাদের লাভের একটা বড় অংশই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভেলা পারাপার সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলযাত্রায়। খালের গভীর জলে ড্রামের ভেলায় চড়ে প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হয়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবক খালেদা বেগমের মতো অনেককেই প্রতিদিন সন্তানকে পার করে দিতে খালের ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম মিয়া ও আব্দুল আজিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি সেতু নির্মাণের জন্য ৯ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, সেতুটির মাপজোখ করে বহুবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও বাস্তবে বরাদ্দের দেখা মেলেনি। এদিকে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. এজাহারুল হক জানিয়েছেন, ১০০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলে তবেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা এই জনপ্রত্যাশার কবে অবসান ঘটবে, তার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এখনও দিতে পারছেন না কেউ।
বিষয় : কুড়িগ্রাম খবর রাজারহাট

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
একটি ড্রামের ভেলা আর নিচে গভীর খালের করাল গ্রাস—এই দৃশ্য কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের গত ৯ বছরের নিত্যদিনের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় কামারের ছড়া খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ড্রামের ভেলা। আজও সেই ভাঙা সেতুর স্থানে নতুন কোনো সেতু না ওঠায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ আশপাশের এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে উৎপাদিত সোনালী ফসল বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে তাদের এখন অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে পরিবহন খরচ। কৃষক আনসার আলীর আক্ষেপ, অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফসল বাজারে নিতে গিয়ে তাদের লাভের একটা বড় অংশই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভেলা পারাপার সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলযাত্রায়। খালের গভীর জলে ড্রামের ভেলায় চড়ে প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হয়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবক খালেদা বেগমের মতো অনেককেই প্রতিদিন সন্তানকে পার করে দিতে খালের ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম মিয়া ও আব্দুল আজিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি সেতু নির্মাণের জন্য ৯ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, সেতুটির মাপজোখ করে বহুবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও বাস্তবে বরাদ্দের দেখা মেলেনি। এদিকে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. এজাহারুল হক জানিয়েছেন, ১০০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলে তবেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা এই জনপ্রত্যাশার কবে অবসান ঘটবে, তার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এখনও দিতে পারছেন না কেউ।

আপনার মতামত লিখুন