রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বর্ষা শেষ হতে না হতেই তিস্তার বুকে জেগে উঠছে অসংখ্য চর। পানিপ্রবাহ কমে প্রমত্তা তিস্তা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
শুকিয়ে যাওয়া তিস্তার বুক জুড়ে এখন বালু আর বালু। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চরে। চরে চলছে আলু, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। মাঠে মাঠে চলছে ফুটবল খেলা। জানা যায়-প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসে বালু। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় নৌ পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত কম ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে তিস্তার পানি গত বছরের চেয়ে অনেক কমে গেছে। প্রতি বছর তিস্তার তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিহ্য।
এক সময় দূর দূরান্ত থেকে নৌপথে ব্যবসায়ীরা আসতেন বাণিজ্য করার জন্য। সেই দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সহজেই দুকুল ছেপে বন্যা আসে। ভাঙে আবাদি জমি, ঘরবাড়ি। নিঃস্ব হয় শতশত পরিবার। তাছাড়া পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা আজ অসহায়। নদীতে নেই আর আগের মতো মাছ। জেলেরা পেশা বদল করে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার পানিপ্রবাহ খুবেই কমে গেছে। গত এক মাস আগের সেই তিস্তা আর নেই। মূল তিস্তা সেতুর (৮৫০ মিটার দীর্ঘ) চারভাগের এক অংশ দিয়ে ক্ষীণধারায় পানিপ্রবাহ হচ্ছে। বাকি তিন ভাগ শুকিয়ে গেছে। লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের মহীপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন(৫২) ও মতিবর রহমান(৪৫) জানান, পানির অভাবে ঠিকমতো চাষবাস হয় না। একই গ্রামের এক সময়ের প্রভাবশালী কৃষক সুলতান। তাদের তিস্তায় ২০/২৫ একর জমি ছিল। তিস্তার পানি দিয়েই আবাদ করতন। এখন আর সেটা নেই। জমিতে শ্যালো দিয়ে সেচ দিয়ে আবাদ করছেন। তেমন খরচ হতো না। সুলতান বলেন, আগের মত নদীতে পানি নেই। শ্যালো দিয়ে পানিসেচ দেওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার দিকে চেয়ে আছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। শুকনো মৌসুমে তিস্তার অবস্থা করুণ। নদীর ড্রেজিং করা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী শাসন করলে তীরবর্তী অনেক কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন। এতে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়ত। সেই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে যেত। কৃষকরা লাভবান হতেন।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। ফলে ইতিমধ্যে নদীর বুকে চর জেগে উঠছে।
বিষয় : রংপুরের খবর গংগাচড়া তিস্তা

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বর্ষা শেষ হতে না হতেই তিস্তার বুকে জেগে উঠছে অসংখ্য চর। পানিপ্রবাহ কমে প্রমত্তা তিস্তা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
শুকিয়ে যাওয়া তিস্তার বুক জুড়ে এখন বালু আর বালু। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চরে। চরে চলছে আলু, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। মাঠে মাঠে চলছে ফুটবল খেলা। জানা যায়-প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসে বালু। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় নৌ পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত কম ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে তিস্তার পানি গত বছরের চেয়ে অনেক কমে গেছে। প্রতি বছর তিস্তার তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিহ্য।
এক সময় দূর দূরান্ত থেকে নৌপথে ব্যবসায়ীরা আসতেন বাণিজ্য করার জন্য। সেই দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সহজেই দুকুল ছেপে বন্যা আসে। ভাঙে আবাদি জমি, ঘরবাড়ি। নিঃস্ব হয় শতশত পরিবার। তাছাড়া পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা আজ অসহায়। নদীতে নেই আর আগের মতো মাছ। জেলেরা পেশা বদল করে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার পানিপ্রবাহ খুবেই কমে গেছে। গত এক মাস আগের সেই তিস্তা আর নেই। মূল তিস্তা সেতুর (৮৫০ মিটার দীর্ঘ) চারভাগের এক অংশ দিয়ে ক্ষীণধারায় পানিপ্রবাহ হচ্ছে। বাকি তিন ভাগ শুকিয়ে গেছে। লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের মহীপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন(৫২) ও মতিবর রহমান(৪৫) জানান, পানির অভাবে ঠিকমতো চাষবাস হয় না। একই গ্রামের এক সময়ের প্রভাবশালী কৃষক সুলতান। তাদের তিস্তায় ২০/২৫ একর জমি ছিল। তিস্তার পানি দিয়েই আবাদ করতন। এখন আর সেটা নেই। জমিতে শ্যালো দিয়ে সেচ দিয়ে আবাদ করছেন। তেমন খরচ হতো না। সুলতান বলেন, আগের মত নদীতে পানি নেই। শ্যালো দিয়ে পানিসেচ দেওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার দিকে চেয়ে আছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। শুকনো মৌসুমে তিস্তার অবস্থা করুণ। নদীর ড্রেজিং করা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী শাসন করলে তীরবর্তী অনেক কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন। এতে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়ত। সেই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে যেত। কৃষকরা লাভবান হতেন।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। ফলে ইতিমধ্যে নদীর বুকে চর জেগে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন