রংপুর    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক, সংস্কারের সপ্তাহ পেরোতেই আবার ভাঙন, আবার মেরামত

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক, সংস্কারের সপ্তাহ পেরোতেই আবার ভাঙন, আবার মেরামত
রংপুর নগরীর ধাপ হাজীপাড়া মোড়ে সড়কের সংস্কারকাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে জনগণের আশঙ্কা যে শতভাগ সত্য ছিল, তার প্রমাণ মিলল মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে। নতুন বসানো সিমেন্টের ব্লক গুঁড়ো হয়ে যাওয়া, পিচের প্রলেপ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়া এবং জোড়াতালির সেই সংস্কার ফের ভেঙে পড়ার ঘটনায় চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি অর্থে চলা এমন লোকদেখানো কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা, যদিও সড়ক বিভাগ বরাবরের মতো অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি আর সড়কের দুর্বল ভিত্তিকেই এর জন্য দায়ী করে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে।

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের অন্তত দুই কিলোমিটার জুড়েই এখন বেহাল দশার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে সামনে রেখে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করতে রীতিমতো যুদ্ধকালীন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে সেখানে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গতকাল রবিবার সরেজমিন দেখা গেছে সেই সংস্কার টিকেনি একটুও। বরং একই স্থানে আবারও চলছে দায়সারা মেরামতের কাজ।

অল্প কয়েক দিনের মধ্যে একই সড়কে বারবার এমন সংস্কারের তামাশা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চালক ও এলাকাবাসী। সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা এরশাদ উদ্দিনের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই নিম্নমানের কাজ করা হয় যাতে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয় এবং বারবার মেরামতের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকে। কেল্লাবন্দ এলাকার ব্যবসায়ী সাজু ইসলামও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে বসানো ব্লকগুলো গুঁড়ো হয়ে যাওয়ায় এখন আবার লোকদেখানো কাজ চলছে, যা কোনো কাজেই আসবে না।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজটি পেয়েছিল রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ডন এন্টারপ্রাইজ’। গত বছর কাজ শুরু হলেও প্রথম থেকেই এর মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মাঠে কাজ করা শ্রমিক আনারুল ইসলাম ও আব্দুল হাদির সরল স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলেই গত ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর টানা তড়িঘড়ি করে এই কাজ করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশমতো কাজ করাই তাঁদের দায়িত্ব, রাস্তা টিকল কি না সেই দায় নেওয়ার কেউ নেই।

এদিকে কাজের এমন করুণ পরিণতি নিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা অদ্ভুত এক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচল এবং সড়কের নিচের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি দুর্বল হওয়ার কারণেই ব্লক ও পিচ টিকছে না। নতুন করে সড়কটি সম্পূর্ণ নির্মাণ না করা পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি ফাউন্ডেশনই খারাপ হয়ে থাকে, তবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই লোকদেখানো ও সাময়িক মেরামতের নামে কেন হরিলুট চালানো হচ্ছে?

বিষয় : রংপুরের খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক, সংস্কারের সপ্তাহ পেরোতেই আবার ভাঙন, আবার মেরামত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে জনগণের আশঙ্কা যে শতভাগ সত্য ছিল, তার প্রমাণ মিলল মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে। নতুন বসানো সিমেন্টের ব্লক গুঁড়ো হয়ে যাওয়া, পিচের প্রলেপ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়া এবং জোড়াতালির সেই সংস্কার ফের ভেঙে পড়ার ঘটনায় চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি অর্থে চলা এমন লোকদেখানো কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা, যদিও সড়ক বিভাগ বরাবরের মতো অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি আর সড়কের দুর্বল ভিত্তিকেই এর জন্য দায়ী করে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে।

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের অন্তত দুই কিলোমিটার জুড়েই এখন বেহাল দশার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে সামনে রেখে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করতে রীতিমতো যুদ্ধকালীন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে সেখানে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গতকাল রবিবার সরেজমিন দেখা গেছে সেই সংস্কার টিকেনি একটুও। বরং একই স্থানে আবারও চলছে দায়সারা মেরামতের কাজ।

অল্প কয়েক দিনের মধ্যে একই সড়কে বারবার এমন সংস্কারের তামাশা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চালক ও এলাকাবাসী। সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা এরশাদ উদ্দিনের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই নিম্নমানের কাজ করা হয় যাতে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয় এবং বারবার মেরামতের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকে। কেল্লাবন্দ এলাকার ব্যবসায়ী সাজু ইসলামও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে বসানো ব্লকগুলো গুঁড়ো হয়ে যাওয়ায় এখন আবার লোকদেখানো কাজ চলছে, যা কোনো কাজেই আসবে না।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজটি পেয়েছিল রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ডন এন্টারপ্রাইজ’। গত বছর কাজ শুরু হলেও প্রথম থেকেই এর মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মাঠে কাজ করা শ্রমিক আনারুল ইসলাম ও আব্দুল হাদির সরল স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলেই গত ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর টানা তড়িঘড়ি করে এই কাজ করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশমতো কাজ করাই তাঁদের দায়িত্ব, রাস্তা টিকল কি না সেই দায় নেওয়ার কেউ নেই।

এদিকে কাজের এমন করুণ পরিণতি নিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা অদ্ভুত এক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচল এবং সড়কের নিচের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি দুর্বল হওয়ার কারণেই ব্লক ও পিচ টিকছে না। নতুন করে সড়কটি সম্পূর্ণ নির্মাণ না করা পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি ফাউন্ডেশনই খারাপ হয়ে থাকে, তবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই লোকদেখানো ও সাময়িক মেরামতের নামে কেন হরিলুট চালানো হচ্ছে?


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ