একসময় যে কারখানায় তৈরি হতো প্রায় ১২ হাজার পদের রেলযন্ত্রাংশ, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে! ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে খুচরা যন্ত্রাংশ। দেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এই করুণ দশা সরেজমিনে দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি কারখানাটির হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রেলমন্ত্রী জানান, দেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০টি যাত্রীবাহী রেল কোচ অকেজো হয়ে মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। এসব কোচ যদি দ্রুততম সময়ে সচল করা যায়, তবে রেলে তীব্র বগি সংকট দূর হবে।
তিনি জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে এসব কোচ মেরামতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনবল সংকট মেটাতে ও কাজের মান বাড়াতে শিগগিরই দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি জবরদখল প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী জানান, কেবল সৈয়দপুর পৌর এলাকাতেই রেলওয়ের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ একর জমি বর্তমানে পৌরসভার দখলে রয়েছে। জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ বর্তমানে আদালতে চলমান।
জমি উদ্ধারে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন:
"রেলের সম্পদ প্রথমত রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহার হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যার দখলেই থাকুক না কেন, আইনি পথেই তা পুনরুদ্ধার করা হবে। বর্তমানে রেলের জমি লিজ দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।"
রেলওয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে রেলের নিজস্ব হাসপাতালগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। তাই দেশের অন্তত ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় (Joint Management) পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকলিমাসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিষয় : সৈয়দপুরের খবর

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
একসময় যে কারখানায় তৈরি হতো প্রায় ১২ হাজার পদের রেলযন্ত্রাংশ, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে! ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে খুচরা যন্ত্রাংশ। দেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এই করুণ দশা সরেজমিনে দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি কারখানাটির হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রেলমন্ত্রী জানান, দেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০টি যাত্রীবাহী রেল কোচ অকেজো হয়ে মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। এসব কোচ যদি দ্রুততম সময়ে সচল করা যায়, তবে রেলে তীব্র বগি সংকট দূর হবে।
তিনি জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে এসব কোচ মেরামতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনবল সংকট মেটাতে ও কাজের মান বাড়াতে শিগগিরই দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি জবরদখল প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী জানান, কেবল সৈয়দপুর পৌর এলাকাতেই রেলওয়ের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ একর জমি বর্তমানে পৌরসভার দখলে রয়েছে। জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ বর্তমানে আদালতে চলমান।
জমি উদ্ধারে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন:
"রেলের সম্পদ প্রথমত রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহার হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যার দখলেই থাকুক না কেন, আইনি পথেই তা পুনরুদ্ধার করা হবে। বর্তমানে রেলের জমি লিজ দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।"
রেলওয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে রেলের নিজস্ব হাসপাতালগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। তাই দেশের অন্তত ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় (Joint Management) পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকলিমাসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন