রংপুর    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সৈয়দপুরের ঝাড়ু বিদেশে রফতানির প্রত্যাশা

সৈয়দপুরের ঝাড়ু বিদেশে রফতানির প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে জীবন কিংবা অনিশ্চিত বেকারত্ব—সবকিছু পেছনে ফেলে এখন প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন একসময়ের অবহেলিত মানুষেরা। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়ায় পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টারের সামনে গড়ে ওঠা একটি কুটির শিল্প বদলে দিয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার চিত্র।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ফুল এবং স্থানীয় কৃষকদের অবহেলিত পাটকাঠি দিয়ে তৈরি এই ‘গ্রাম বাংলা ঝাড়ু’ এখন সৈয়দপুরের গণ্ডি পেরিয়ে আলোড়ন তুলেছে পুরো রংপুর বিভাগে।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ফেলে দেওয়া ঝুট কাপড় দিয়ে সৈয়দপুরে পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তুলে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু। তিনি ‘বাংলাদেশ রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প মালিক সমিতি’র সাংগঠনিক সম্পাদক।

কুমিল্লার ঝাড়ু তৈরির প্রযুক্তি ও ধারণা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আরব ট্রেডার্স অ্যান্ড কুটির শিল্প’। তাঁর ‘আর এস এন্টারপ্রাইজ’ এর সহযোগিতায় বর্তমানে এই কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার পিস বিভিন্ন সাইজের ও মডেলের ঝাড়ু।

কারখানার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন লিটন সরকার। সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে পারভেজ ও মনিরুল। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় মানবিক সাফল্য লুকিয়ে আছে পুতুল (৩৮) ও নুরনবীর মতো অবহেলিত মানুষদের গল্পে।

পথের ধারে চেয়ে খাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন বা বিচ্ছিন্ন স্বভাবের পুতুল বলেন:

"ভারী কাজ করতে না পারায় কেউ কাজ দিতো না। না খেয়ে দিন কাটত। এখন আরামের কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। সাজু স্যার আমার জীবন বাঁচাইছেন।"

আগে বেকার ঘুরে বেড়ানো নুরনবী জানান, এই কাজের সুবাদে তিনি এখন বাবা-মায়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেছেন। বিপথগামী জীবন থেকে ফিরে পেয়ে আজ তাঁরা ঘুচিয়েছেন বেকারত্বের গ্লানি।

উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু জানান, আগে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা থেকে চড়া দামে ঝাড়ু এনে স্থানীয় বাজারে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হতো ব্যবসায়ীদের। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এই ঝাড়ু মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি পাটচাষিদের ফেলে দেওয়া পাটকাঠিও দারুণভাবে কাজে লাগছে।

তিনি আরও বলেন:

"আমাদের এই পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব অত্যন্ত ভালো হওয়ায় সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুতই বিদেশের বাজারেও আমাদের ‘গ্রাম বাংলা ঝাড়ু’র নাম পৌঁছাবে।"

বিষয় : সৈয়দপুর খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


সৈয়দপুরের ঝাড়ু বিদেশে রফতানির প্রত্যাশা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে জীবন কিংবা অনিশ্চিত বেকারত্ব—সবকিছু পেছনে ফেলে এখন প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন একসময়ের অবহেলিত মানুষেরা। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়ায় পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টারের সামনে গড়ে ওঠা একটি কুটির শিল্প বদলে দিয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার চিত্র।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ফুল এবং স্থানীয় কৃষকদের অবহেলিত পাটকাঠি দিয়ে তৈরি এই ‘গ্রাম বাংলা ঝাড়ু’ এখন সৈয়দপুরের গণ্ডি পেরিয়ে আলোড়ন তুলেছে পুরো রংপুর বিভাগে।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ফেলে দেওয়া ঝুট কাপড় দিয়ে সৈয়দপুরে পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তুলে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু। তিনি ‘বাংলাদেশ রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প মালিক সমিতি’র সাংগঠনিক সম্পাদক।

কুমিল্লার ঝাড়ু তৈরির প্রযুক্তি ও ধারণা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আরব ট্রেডার্স অ্যান্ড কুটির শিল্প’। তাঁর ‘আর এস এন্টারপ্রাইজ’ এর সহযোগিতায় বর্তমানে এই কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার পিস বিভিন্ন সাইজের ও মডেলের ঝাড়ু।

কারখানার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন লিটন সরকার। সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে পারভেজ ও মনিরুল। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় মানবিক সাফল্য লুকিয়ে আছে পুতুল (৩৮) ও নুরনবীর মতো অবহেলিত মানুষদের গল্পে।

পথের ধারে চেয়ে খাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন বা বিচ্ছিন্ন স্বভাবের পুতুল বলেন:

"ভারী কাজ করতে না পারায় কেউ কাজ দিতো না। না খেয়ে দিন কাটত। এখন আরামের কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। সাজু স্যার আমার জীবন বাঁচাইছেন।"

আগে বেকার ঘুরে বেড়ানো নুরনবী জানান, এই কাজের সুবাদে তিনি এখন বাবা-মায়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেছেন। বিপথগামী জীবন থেকে ফিরে পেয়ে আজ তাঁরা ঘুচিয়েছেন বেকারত্বের গ্লানি।

উদ্যোক্তা ফাইয়াজুল হক সাজু জানান, আগে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা থেকে চড়া দামে ঝাড়ু এনে স্থানীয় বাজারে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হতো ব্যবসায়ীদের। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এই ঝাড়ু মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি পাটচাষিদের ফেলে দেওয়া পাটকাঠিও দারুণভাবে কাজে লাগছে।

তিনি আরও বলেন:

"আমাদের এই পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব অত্যন্ত ভালো হওয়ায় সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুতই বিদেশের বাজারেও আমাদের ‘গ্রাম বাংলা ঝাড়ু’র নাম পৌঁছাবে।"


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ