রংপুর    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ

‘সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’

সৈয়দপুরে সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ

সৈয়দপুরে সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য সরকারের দেওয়া কোটি কোটি টাকার পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গোপন চুক্তিতে এই অপকর্ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং সাংবাদিকদের ভিডিও মুছে ফেলতে ‘সম্মানী’ বা উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ করার লজ্জাজনক প্রস্তাবও দিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের একটি দল যখন দেখতে পান যে, বিদ্যালয়ের ভেতরে বস্তায় ভরে ভ্যানে করে সরকারি পাঠ্যবই তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখনই মূলত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবছরের ন্যায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পাঠ্যবই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যায় কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বইগুলো উত্তোলন করা হলেও তা সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়নি। উল্টো গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেগুলো কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনার দিন দুপুরে সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভ্যানে বস্তা তোলার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। বই কেনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, কোনো ধরনের টেন্ডার বা সরকারি নিয়মনীতি ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের কাছ থেকে তিনি প্রতি কেজি ২১ টাকা দরে এই বইগুলো কিনেছেন। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি করে বই রয়েছে। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, “আমাদের আর কী করার আছে? আমি ২১ টাকা কেজি দরে বই কিনেছি, এখন তা ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব।”

বিদ্যালয়ের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের যৌথ যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা চলে আসছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাত্র এক বছর আগে যোগ দিলেও ব্যবস্থাপকের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া তিনি এককভাবে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেতেন না বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।

এদিকে, পাঠ্যবই বিক্রির আসল সত্যতা, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বইয়ের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবং অবণ্টিত বইয়ের হিসাব চাইতে গেলে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদ। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো ভিডিওগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রস্তাব দেন, “ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনারা সম্মানিত মানুষ, আপনাদের সম্মানী দিয়ে দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।”

তবে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো কথা তাঁর সঙ্গে হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি কেবল এটুকু জানান যে,

পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দ্রুত কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিনা মূল্যের সরকারি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণের পবিত্র আমানত। এগুলো বিক্রি করে দেওয়া চরম অনৈতিক ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এই ঘটনার পর ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল। লিটন ইসলাম নামের এক ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিনা মূল্যে বই দেয়। অথচ একজন শিক্ষক, যাঁদের আমরা বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি সম্মান করি, তাঁরা কীভাবে এমন চোরসুলভ কাজ করতে পারেন?

মোজাহারুল ইসলামসহ একাধিক অভিভাবক আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়টিতে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরাই বেশি পড়ালেখা করে। কিন্তু বর্তমান প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছেন। আগে যেখানে মাসিক বেতন ছিল ৬০ টাকা, তা বাড়িয়ে সোজা ১৫০ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেশন ফি ও নানা অজুহাতে বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে। এর ওপর আবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামের গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের ওপর অঘোষিত বাধ্যবাধকতা বা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার যখন বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দিচ্ছে, তখন শিক্ষার্থীদের পকেট কাটতে কেন এভাবে গাইড কিনতে বাধ্য করা হবে—সেই প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

বই সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিতরণ ও অবৈধ বিক্রির সমস্ত নথি ও রেজিস্টার যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪

বিষয় : সৈয়দপুর খবর নীলফামারীর খবর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


সৈয়দপুরে সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য সরকারের দেওয়া কোটি কোটি টাকার পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গোপন চুক্তিতে এই অপকর্ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং সাংবাদিকদের ভিডিও মুছে ফেলতে ‘সম্মানী’ বা উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ করার লজ্জাজনক প্রস্তাবও দিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের একটি দল যখন দেখতে পান যে, বিদ্যালয়ের ভেতরে বস্তায় ভরে ভ্যানে করে সরকারি পাঠ্যবই তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখনই মূলত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবছরের ন্যায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পাঠ্যবই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যায় কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বইগুলো উত্তোলন করা হলেও তা সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়নি। উল্টো গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেগুলো কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনার দিন দুপুরে সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভ্যানে বস্তা তোলার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। বই কেনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, কোনো ধরনের টেন্ডার বা সরকারি নিয়মনীতি ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের কাছ থেকে তিনি প্রতি কেজি ২১ টাকা দরে এই বইগুলো কিনেছেন। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি করে বই রয়েছে। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, “আমাদের আর কী করার আছে? আমি ২১ টাকা কেজি দরে বই কিনেছি, এখন তা ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব।”

বিদ্যালয়ের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের যৌথ যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা চলে আসছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাত্র এক বছর আগে যোগ দিলেও ব্যবস্থাপকের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া তিনি এককভাবে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেতেন না বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।

এদিকে, পাঠ্যবই বিক্রির আসল সত্যতা, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বইয়ের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবং অবণ্টিত বইয়ের হিসাব চাইতে গেলে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদ। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো ভিডিওগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রস্তাব দেন, “ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনারা সম্মানিত মানুষ, আপনাদের সম্মানী দিয়ে দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।”

তবে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো কথা তাঁর সঙ্গে হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি কেবল এটুকু জানান যে,

পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দ্রুত কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিনা মূল্যের সরকারি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণের পবিত্র আমানত। এগুলো বিক্রি করে দেওয়া চরম অনৈতিক ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এই ঘটনার পর ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল। লিটন ইসলাম নামের এক ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিনা মূল্যে বই দেয়। অথচ একজন শিক্ষক, যাঁদের আমরা বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি সম্মান করি, তাঁরা কীভাবে এমন চোরসুলভ কাজ করতে পারেন?

মোজাহারুল ইসলামসহ একাধিক অভিভাবক আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়টিতে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরাই বেশি পড়ালেখা করে। কিন্তু বর্তমান প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছেন। আগে যেখানে মাসিক বেতন ছিল ৬০ টাকা, তা বাড়িয়ে সোজা ১৫০ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেশন ফি ও নানা অজুহাতে বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে। এর ওপর আবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামের গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের ওপর অঘোষিত বাধ্যবাধকতা বা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার যখন বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দিচ্ছে, তখন শিক্ষার্থীদের পকেট কাটতে কেন এভাবে গাইড কিনতে বাধ্য করা হবে—সেই প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

বই সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিতরণ ও অবৈধ বিক্রির সমস্ত নথি ও রেজিস্টার যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ