নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মোটরসাইকেলের ওপরনীলফামারীর ডোমার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এ কে এম জাহাঙ্গীর বসুনিয়া (রাসেল বসুনিয়া) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রাসেল বসুনিয়া জেলার চিলাহাটি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, বাসটি উল্টে যাওয়ার ঠিক ওই মুহূর্তেই পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই রাসেল বসুনিয়ার মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলে থাকা অপর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।এদিকে চলন্ত বাসটি উল্টে যাওয়ার ফলে ভেতরের অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ও বডি কেটে অবরুদ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে বর্তমানে সংস্কারকাজ চললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ছিল। নির্মাণাধীন স্থানে কোনো পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, রিফ্লেক্টিভ ব্যারিকেড, রোড কোণ কিংবা নির্দেশনা ছিল না। ফলে চালক দ্রুতগতির কারণে সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বুঝতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রাসেল বসুনিয়ার এক প্রতিবেশী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন:
“রাসেল ভাইয়ের এই মৃত্যুকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফলে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড। একটি ব্যস্ত সড়কে সংস্কারকাজ করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে এখানে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। নির্মাণস্থলের অনেক আগে থেকে কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা প্রশিক্ষিত ফ্ল্যাগম্যান ছিল না।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক সংস্কারকাজের স্থানে দৃশ্যমান সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মোটরসাইকেলের ওপরনীলফামারীর ডোমার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এ কে এম জাহাঙ্গীর বসুনিয়া (রাসেল বসুনিয়া) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রাসেল বসুনিয়া জেলার চিলাহাটি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ধরণীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, বাসটি উল্টে যাওয়ার ঠিক ওই মুহূর্তেই পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই রাসেল বসুনিয়ার মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলে থাকা অপর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।এদিকে চলন্ত বাসটি উল্টে যাওয়ার ফলে ভেতরের অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ও বডি কেটে অবরুদ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে বর্তমানে সংস্কারকাজ চললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ছিল। নির্মাণাধীন স্থানে কোনো পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, রিফ্লেক্টিভ ব্যারিকেড, রোড কোণ কিংবা নির্দেশনা ছিল না। ফলে চালক দ্রুতগতির কারণে সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বুঝতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রাসেল বসুনিয়ার এক প্রতিবেশী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন:
“রাসেল ভাইয়ের এই মৃত্যুকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফলে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড। একটি ব্যস্ত সড়কে সংস্কারকাজ করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে এখানে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। নির্মাণস্থলের অনেক আগে থেকে কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা প্রশিক্ষিত ফ্ল্যাগম্যান ছিল না।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক সংস্কারকাজের স্থানে দৃশ্যমান সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন