রংপুর    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে আগুনে পুড়ল ঘর, ৫ ছাগল দগ্ধ মালিক

বালিয়াডাঙ্গীতে আগুনে পুড়ল ঘর, ৫ ছাগল দগ্ধ মালিক
ছবি: জুফাস নিউজ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক অসহায় পরিবারের একমাত্র বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে মারা গেছে পাঁচটি ছাগল। আগুনে তিনটি গরুও আংশিক দগ্ধ হয়েছে। এ সময় আগুন নেভাতে ও গবাদিপশু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির মালিক মো. তবিবর রহমান দগ্ধ হয়েছেন। বসতঘর ও গবাদিপশু হারিয়ে পরিবারটি এখন অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দক্ষিণ বিশ্রামপুর গ্রামের হলদিবাড়ীহাট এলাকায় এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তবিবর রহমানের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর ও গবাদিপশু রাখার স্থানে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘরের ভেতরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদিপশু রক্ষার চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় গবাদিপশুগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আগুনের ভয়াবহতার কারণে পাঁচটি ছাগলকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই ছাগলগুলো মারা যায়। এছাড়া তিনটি গরু আগুনে আংশিক দগ্ধ হয়েছে। গরুগুলোর অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

আগুন নেভাতে ও গবাদিপশু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির মালিক তবিবর রহমান নিজেও দগ্ধ হন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পরিবারের একমাত্র বসতঘর ও গবাদিপশুর বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে যায়।

গবাদিপশুই ছিল পরিবারের বড় সহায়-সম্বল

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তবিবর রহমানের পরিবারের জন্য গবাদিপশুগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ সহায়-সম্বল। গরু ও ছাগল পালন করে পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হতো।

কিন্তু এক রাতের ভয়াবহ আগুনে সেই সহায়-সম্বলের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে বসতঘর হারিয়েছে, অন্যদিকে মারা গেছে পাঁচটি ছাগল এবং দগ্ধ হয়েছে তিনটি গরু। ঘর হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট।

সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পরিবার

তবিবর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাদের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জন ও সহায়-সম্বলের বড় অংশই গবাদিপশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে জানা গেছে।

হঠাৎ আগুনে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তবিবর রহমান। কোথায় থাকবেন, কীভাবে সন্তানদের নিয়ে সামনের দিনগুলো পার করবেন—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যে সামান্য সম্পদ গড়ে তুলেছিল, রাতের অগ্নিকাণ্ডে তার বড় অংশই শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে থাকার ব্যবস্থা, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার।

সহযোগিতার আহ্বান

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তবিবর রহমানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এগিয়ে এলে পরিবারটি এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। বিশেষ করে বসতঘর পুনর্নির্মাণ এবং গবাদিপশু হারানোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং এতে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বিষয় : অগ্নিকাণ্ড ঠাকুরগাঁও সংবাদ বালিয়াডাঙ্গী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে আগুনে পুড়ল ঘর, ৫ ছাগল দগ্ধ মালিক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক অসহায় পরিবারের একমাত্র বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে মারা গেছে পাঁচটি ছাগল। আগুনে তিনটি গরুও আংশিক দগ্ধ হয়েছে। এ সময় আগুন নেভাতে ও গবাদিপশু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির মালিক মো. তবিবর রহমান দগ্ধ হয়েছেন। বসতঘর ও গবাদিপশু হারিয়ে পরিবারটি এখন অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দক্ষিণ বিশ্রামপুর গ্রামের হলদিবাড়ীহাট এলাকায় এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তবিবর রহমানের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর ও গবাদিপশু রাখার স্থানে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘরের ভেতরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদিপশু রক্ষার চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় গবাদিপশুগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আগুনের ভয়াবহতার কারণে পাঁচটি ছাগলকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই ছাগলগুলো মারা যায়। এছাড়া তিনটি গরু আগুনে আংশিক দগ্ধ হয়েছে। গরুগুলোর অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

আগুন নেভাতে ও গবাদিপশু উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির মালিক তবিবর রহমান নিজেও দগ্ধ হন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পরিবারের একমাত্র বসতঘর ও গবাদিপশুর বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে যায়।

গবাদিপশুই ছিল পরিবারের বড় সহায়-সম্বল

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তবিবর রহমানের পরিবারের জন্য গবাদিপশুগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ সহায়-সম্বল। গরু ও ছাগল পালন করে পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হতো।

কিন্তু এক রাতের ভয়াবহ আগুনে সেই সহায়-সম্বলের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে বসতঘর হারিয়েছে, অন্যদিকে মারা গেছে পাঁচটি ছাগল এবং দগ্ধ হয়েছে তিনটি গরু। ঘর হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট।

সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পরিবার

তবিবর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাদের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জন ও সহায়-সম্বলের বড় অংশই গবাদিপশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে জানা গেছে।

হঠাৎ আগুনে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তবিবর রহমান। কোথায় থাকবেন, কীভাবে সন্তানদের নিয়ে সামনের দিনগুলো পার করবেন—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যে সামান্য সম্পদ গড়ে তুলেছিল, রাতের অগ্নিকাণ্ডে তার বড় অংশই শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে থাকার ব্যবস্থা, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার।

সহযোগিতার আহ্বান

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তবিবর রহমানের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এগিয়ে এলে পরিবারটি এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। বিশেষ করে বসতঘর পুনর্নির্মাণ এবং গবাদিপশু হারানোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং এতে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ