১০ হাজার টাকা মূলধন আর দুটি পুরনো সেলাই মেশিন নিয়ে ব্যবসায় নামা তরুণকে অনেকে হয়তো পাগল ভেবেছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত যে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটাবে, তা ভাবেননি কেউই। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রত্যন্ত হাইস্কুলপাড়ায় গড়ে ওঠা ‘ফারিহা ডিজাইন সেন্টার’ এখন দেশের ডেকোরেশন সামগ্রীর বাজারে এক নতুন নাম।
প্রতিষ্ঠাতা ফজিদুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছা আর সৎ পরিশ্রম থাকলে মফস্বল শহরে বসেই সারা দেশ জয় করা সম্ভব।
গল্পটার পেছনে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক টান। ফজিদুলের বাবা প্রয়াত ‘মাইক জহুরুল ইসলাম’ উত্তরাঞ্চলে একটি নিজস্ব মাল্টিমিডিয়া ডিজাইন সেন্টার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। অর্থাভাবে জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালে বাবার মৃত্যুর এক বছর পর, বাবার সেই অধরা স্বপ্নকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে মাঠে নামেন ফজিদুল।
কোনো ব্যাংক বা বড় তহবিল ছিল না। প্রতিবেশীর পরমার্শে ১০ হাজার টাকায় কেনা দুটি বাতিল সেলাই মেশিন মেরামত করে দুজন কারিগর নিয়ে ছোট একটি টিনের ঘরে কাজ শুরু করেন তিনি।
আজ সেই টিনের চালের নিচে এখন সারি সারি আধুনিক ৩১টি সেলাই মেশিন। ২৫ জন দক্ষ সেলাই অপারেটর আর ৭ জন সহকারী প্রতিদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তৈরি করছেন প্যান্ডেল ও উৎসবের নান্দনিক সব ডেকোরেশন সামগ্রী।
ডিমলা শহরের কোণায় বসে পণ্য তৈরি হলেও এর খদ্দের এখন পুরো বাংলাদেশ। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের সাহায্যে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে ডিমলার তৈরি পণ্য।
ফজিদুল ইসলাম তাঁর বাণিজ্যিক সমীকরণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
"মাসে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পণ্য তৈরি হয়। কাঁচামাল কেনা, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও এনজিওর ১৪ লাখ টাকার ঋণের কিস্তি শোধ করেও প্রতি মাসে আমার পকেটে থাকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি—আমার এখানে ৩২ জন মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা হয়েছে।"
ফজিদুলের মতো তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় বাধা এখন বড় মূলধনের অভাব। বর্তমানে এনজিওর চড়া সুদের ঋণের ওপর ভর করে ব্যবসা টানতে হলেও, সরকারি বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে কারখানাটি আরও বড় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এমন উদীয়মান উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে প্রশাসন। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সহায়তা তহবিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ফজিদুলকে তা সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।
বিষয় : ডিমলার খবর নীলফামারীর খবর

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
১০ হাজার টাকা মূলধন আর দুটি পুরনো সেলাই মেশিন নিয়ে ব্যবসায় নামা তরুণকে অনেকে হয়তো পাগল ভেবেছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত যে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটাবে, তা ভাবেননি কেউই। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রত্যন্ত হাইস্কুলপাড়ায় গড়ে ওঠা ‘ফারিহা ডিজাইন সেন্টার’ এখন দেশের ডেকোরেশন সামগ্রীর বাজারে এক নতুন নাম।
প্রতিষ্ঠাতা ফজিদুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন—অদম্য ইচ্ছা আর সৎ পরিশ্রম থাকলে মফস্বল শহরে বসেই সারা দেশ জয় করা সম্ভব।
গল্পটার পেছনে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক টান। ফজিদুলের বাবা প্রয়াত ‘মাইক জহুরুল ইসলাম’ উত্তরাঞ্চলে একটি নিজস্ব মাল্টিমিডিয়া ডিজাইন সেন্টার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। অর্থাভাবে জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালে বাবার মৃত্যুর এক বছর পর, বাবার সেই অধরা স্বপ্নকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে মাঠে নামেন ফজিদুল।
কোনো ব্যাংক বা বড় তহবিল ছিল না। প্রতিবেশীর পরমার্শে ১০ হাজার টাকায় কেনা দুটি বাতিল সেলাই মেশিন মেরামত করে দুজন কারিগর নিয়ে ছোট একটি টিনের ঘরে কাজ শুরু করেন তিনি।
আজ সেই টিনের চালের নিচে এখন সারি সারি আধুনিক ৩১টি সেলাই মেশিন। ২৫ জন দক্ষ সেলাই অপারেটর আর ৭ জন সহকারী প্রতিদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তৈরি করছেন প্যান্ডেল ও উৎসবের নান্দনিক সব ডেকোরেশন সামগ্রী।
ডিমলা শহরের কোণায় বসে পণ্য তৈরি হলেও এর খদ্দের এখন পুরো বাংলাদেশ। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের সাহায্যে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে ডিমলার তৈরি পণ্য।
ফজিদুল ইসলাম তাঁর বাণিজ্যিক সমীকরণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
"মাসে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পণ্য তৈরি হয়। কাঁচামাল কেনা, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও এনজিওর ১৪ লাখ টাকার ঋণের কিস্তি শোধ করেও প্রতি মাসে আমার পকেটে থাকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি—আমার এখানে ৩২ জন মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা হয়েছে।"
ফজিদুলের মতো তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় বাধা এখন বড় মূলধনের অভাব। বর্তমানে এনজিওর চড়া সুদের ঋণের ওপর ভর করে ব্যবসা টানতে হলেও, সরকারি বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে কারখানাটি আরও বড় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এমন উদীয়মান উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে প্রশাসন। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সহায়তা তহবিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ফজিদুলকে তা সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন