রংপুর    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস
ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে একগুচ্ছ বই আর খাতা নিয়ে শ্রেণীকক্ষের দিকে হেঁটে যাওয়া লোকটিকে আমরা সবাই চিনি। তিনি আমাদের ‘স্যার’ কিংবা ‘ম্যাডাম’। ব্ল্যাকবোর্ডে চক-ডাস্টারের খসখস শব্দে কিংবা ডিজিটাল স্ক্রিনে যিনি পরম যত্নে এঁকে দেন জীবনের একেকটি পাঠ—আজ তাঁর দিন। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’।

১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর আহ্বানে ৫ অক্টোবর পালিত হয়ে আসা এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য একটাই—জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগরদের অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা।

একটি সমাজ কতটা উন্নত, তা নির্ভর করে সেই সমাজের শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু তার ওপর। ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা কিংবা রাজনীতিবিদ—সব পেশার মানুষের বুনিয়াদ তৈরি হয় একজন শিক্ষকের হাত ধরে।

নীলফামারীর এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন:

"আমরা মোমবাতির মতো নিজেরা ক্ষয়ে গিয়ে চারপাশকে আলোকিত করি। জীবনের শেষ বয়সে এসে যখন দেখি আমার ছাত্র দেশের বড় পদে বসেছে বা দেশের সেবা করছে, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই। এই আত্মতৃপ্তি অন্য কোনো পেশায় মেলে না।"

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবহ থাকলেও বাস্তবতার জমিনে চিত্রটা সবসময় অতটা রঙিন নয়। বিশেষ করে মফস্বলের বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের জীবন কাটছে চরম টানাপোড়েনে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য তাঁদের প্রতিনিয়ত থমকে দিচ্ছে।

রংপুরের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন:

"শ্রদ্ধা আমরা পাই, কিন্তু বাজারের খরচ মেটাতে গিয়ে কেবল শ্রদ্ধায় পেট ভরে না। একই যোগ্যতা নিয়ে কাজ করেও সুযোগ-সুবিধার যে বিশাল ব্যবধান, তা ঘুচানো জরুরি। শিক্ষকের মর্যাদা কেবল বক্তৃতায় নয়, তাঁর জীবনযাত্রার মানেও প্রতিফলিত হতে হবে।"

শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা বা ফুলের শুভেচ্ছায় শিক্ষক দিবসের সার্থকতা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। গুণগত ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তবেই নতুন প্রজন্ম পাবে যোগ্য দিকনির্দেশক।

বিষয় : শিক্ষক দিবস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে একগুচ্ছ বই আর খাতা নিয়ে শ্রেণীকক্ষের দিকে হেঁটে যাওয়া লোকটিকে আমরা সবাই চিনি। তিনি আমাদের ‘স্যার’ কিংবা ‘ম্যাডাম’। ব্ল্যাকবোর্ডে চক-ডাস্টারের খসখস শব্দে কিংবা ডিজিটাল স্ক্রিনে যিনি পরম যত্নে এঁকে দেন জীবনের একেকটি পাঠ—আজ তাঁর দিন। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’।

১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর আহ্বানে ৫ অক্টোবর পালিত হয়ে আসা এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য একটাই—জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগরদের অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা।

একটি সমাজ কতটা উন্নত, তা নির্ভর করে সেই সমাজের শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু তার ওপর। ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা কিংবা রাজনীতিবিদ—সব পেশার মানুষের বুনিয়াদ তৈরি হয় একজন শিক্ষকের হাত ধরে।

নীলফামারীর এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন:

"আমরা মোমবাতির মতো নিজেরা ক্ষয়ে গিয়ে চারপাশকে আলোকিত করি। জীবনের শেষ বয়সে এসে যখন দেখি আমার ছাত্র দেশের বড় পদে বসেছে বা দেশের সেবা করছে, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই। এই আত্মতৃপ্তি অন্য কোনো পেশায় মেলে না।"

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবহ থাকলেও বাস্তবতার জমিনে চিত্রটা সবসময় অতটা রঙিন নয়। বিশেষ করে মফস্বলের বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের জীবন কাটছে চরম টানাপোড়েনে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য তাঁদের প্রতিনিয়ত থমকে দিচ্ছে।

রংপুরের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন:

"শ্রদ্ধা আমরা পাই, কিন্তু বাজারের খরচ মেটাতে গিয়ে কেবল শ্রদ্ধায় পেট ভরে না। একই যোগ্যতা নিয়ে কাজ করেও সুযোগ-সুবিধার যে বিশাল ব্যবধান, তা ঘুচানো জরুরি। শিক্ষকের মর্যাদা কেবল বক্তৃতায় নয়, তাঁর জীবনযাত্রার মানেও প্রতিফলিত হতে হবে।"

শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা বা ফুলের শুভেচ্ছায় শিক্ষক দিবসের সার্থকতা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। গুণগত ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তবেই নতুন প্রজন্ম পাবে যোগ্য দিকনির্দেশক।



জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ