একদিকে রোগীদের সেবা দেওয়ার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্যদিকে পুরো উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘উপজেলা পরিষদ’। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ঠিক মাঝখানে, ব্যস্ততম রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের কোল ঘেঁষে দিনের পর দিন গড়ে তোলা হয়েছে বিষাক্ত প্লাস্টিক, পলিথিন ও ধাতব বর্জ্যের এক বিশাল ভাগাড়।
যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে মানুষের সুস্থ হওয়ার কথা, সেখানে তারাগঞ্জের ঘনিরামপুর এলাকায় এই খোলা ময়লার স্তূপ পরিণত হয়েছে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত মারাত্মক রোগের ‘প্রজনন কেন্দ্রে’।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্য দিবালোকে এই স্থানে ভাঙারি মালামাল কেনাবেচা ও খোলা আকাশের নিচে জমা করে রাখা হচ্ছে। টিন, লোহা, পুরানো প্লাস্টিক ও ক্যাবলের স্তূপে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হচ্ছে মশার আদর্শ বংশবৃদ্ধির পরিবেশ।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রশাসনিক কর্তা ও চিকিৎসকরা যাতায়াত করলেও রহস্যজনকভাবে কারোরই নজর পড়ছে না এই বিষফোঁড়ার দিকে। ভাঙারি ব্যবসার কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা বৈধতা আছে কি না—তা নিয়েও মেলেনি কোনো স্পষ্ট তথ্য।
রোগীর স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের প্রশ্ন:
"উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালের মতো জায়গায় যদি এমন প্রকাশ্য দূষণ চলতে পারে, তবে প্রত্যন্ত গ্রামের পরিবেশ সুরক্ষা করবে কে? চিকিৎসাকেন্দ্রের দুয়ারেই যদি রোগ ছড়ানোর উৎস থাকে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?"
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বিষয়টিকে কেবল 'নোংরা পরিবেশ' হিসেবে না দেখে তিনটি বড় হুমকির কথা তুলে ধরেছেন:
১. হাসপাতালের একেবারে কাছেই জমে থাকা প্লাস্টিকের ড্রাম ও কৌটা থেকে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে।
২. ব্যস্ত মহাসড়কের গা ঘেঁষে মালামাল ওঠানামা করায় পথচারী ও দূরপাল্লার গাড়ির চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে।
৩. প্লাস্টিক ও ধাতব বর্জ্যের কারণে আশপাশের আবাদি জমি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি—অর্ধেক সমাধান বা লোকদেখা কাজ নয়, বরং অবিলম্বে এই স্থান থেকে সমস্ত বর্জ্য অপসারণ করে এলাকাটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। একই সাথে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উন্মুক্ত স্থানে অবৈধ ভাঙারি ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
জনস্বার্থ রক্ষায় হাসপাতাল ও প্রশাসনিক চত্বরের সংলগ্ন এলাকা পরিবেশবান্ধব রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
একদিকে রোগীদের সেবা দেওয়ার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্যদিকে পুরো উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘উপজেলা পরিষদ’। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ঠিক মাঝখানে, ব্যস্ততম রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের কোল ঘেঁষে দিনের পর দিন গড়ে তোলা হয়েছে বিষাক্ত প্লাস্টিক, পলিথিন ও ধাতব বর্জ্যের এক বিশাল ভাগাড়।
যেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে মানুষের সুস্থ হওয়ার কথা, সেখানে তারাগঞ্জের ঘনিরামপুর এলাকায় এই খোলা ময়লার স্তূপ পরিণত হয়েছে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত মারাত্মক রোগের ‘প্রজনন কেন্দ্রে’।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্য দিবালোকে এই স্থানে ভাঙারি মালামাল কেনাবেচা ও খোলা আকাশের নিচে জমা করে রাখা হচ্ছে। টিন, লোহা, পুরানো প্লাস্টিক ও ক্যাবলের স্তূপে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হচ্ছে মশার আদর্শ বংশবৃদ্ধির পরিবেশ।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রশাসনিক কর্তা ও চিকিৎসকরা যাতায়াত করলেও রহস্যজনকভাবে কারোরই নজর পড়ছে না এই বিষফোঁড়ার দিকে। ভাঙারি ব্যবসার কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা বৈধতা আছে কি না—তা নিয়েও মেলেনি কোনো স্পষ্ট তথ্য।
রোগীর স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের প্রশ্ন:
"উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালের মতো জায়গায় যদি এমন প্রকাশ্য দূষণ চলতে পারে, তবে প্রত্যন্ত গ্রামের পরিবেশ সুরক্ষা করবে কে? চিকিৎসাকেন্দ্রের দুয়ারেই যদি রোগ ছড়ানোর উৎস থাকে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?"
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বিষয়টিকে কেবল 'নোংরা পরিবেশ' হিসেবে না দেখে তিনটি বড় হুমকির কথা তুলে ধরেছেন:
১. হাসপাতালের একেবারে কাছেই জমে থাকা প্লাস্টিকের ড্রাম ও কৌটা থেকে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে।
২. ব্যস্ত মহাসড়কের গা ঘেঁষে মালামাল ওঠানামা করায় পথচারী ও দূরপাল্লার গাড়ির চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে।
৩. প্লাস্টিক ও ধাতব বর্জ্যের কারণে আশপাশের আবাদি জমি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি—অর্ধেক সমাধান বা লোকদেখা কাজ নয়, বরং অবিলম্বে এই স্থান থেকে সমস্ত বর্জ্য অপসারণ করে এলাকাটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। একই সাথে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উন্মুক্ত স্থানে অবৈধ ভাঙারি ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
জনস্বার্থ রক্ষায় হাসপাতাল ও প্রশাসনিক চত্বরের সংলগ্ন এলাকা পরিবেশবান্ধব রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আপনার মতামত লিখুন