শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নেই, ঘণ্টা পড়লেও মিলছে না পড়ার পাঠ। কারণ যিনি পড়াবেন, তাকে ছুটতে হয়েছে উপজেলা সদরের দাপ্তরিক কাজে। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আজকাল এটিই যেন নিত্যদিনের দৃশ্য।
উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতেই নেই কোনো নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। কোথাও পাঁচ থেকে সাত বছর, আবার কোথাও টানা ১০ বছর ধরে অভিভাবকহীন অবস্থায় ধুঁকছে এসব চিকিৎসাকেন্দ্র-সমতুল্য বিদ্যাপিঠ।
নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মঞ্জুরীকৃত ছয়জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। তার ওপর প্রায় দুই বছর ধরে খালি পড়ে আছে প্রধান শিক্ষকের পদ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আইনুন নাহার ও কাকলি আক্তারের মতে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ক্লাস নিতে গিয়ে তাঁদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার চরম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান, তখন তিন-চারজন শিক্ষককে একাই সামলাতে হয় সব কটি শ্রেণির পাঠদান। ফলে শিক্ষকেরা যেমন বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে গুণগত শিক্ষা থেকে।
স্কুল শিক্ষার্থী বিপ্লব ও আয়েশা আক্তারের স্পষ্ট কথা, ক্লাসে নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় পড়া ঝুলে থাকে, যা পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক ও মিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"বছরের পর বছর একটি সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকবে না—এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানরা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিটাই শক্তভাবে গড়তে পারছে না। শিক্ষা প্রশাসনের এই দীর্ঘ উদাসীনতার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ গরিব ঘরের শিশুরা।"
নওপাড়া স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস ও প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জামান আলী জানান, শিক্ষাদানের চেয়ে এখন কাগজে-কলমে প্রশাসনিক ফাইলিং করতেই বেশি সময় চলে যাচ্ছে। একে তো প্রধান শিক্ষক নেই, তার ওপর দপ্তর পরিচালনার জন্য কোনো পিয়ন বা অফিস সহকারী নেই। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে প্রশাসনিক কাজে মনোযোগী হতে হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম সমস্যাটির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ১৭টি শূন্য পদ ও ৫টি চলতি দায়িত্বের পদ দ্রুত পূরণে কাজ চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিষয় : দিনাজপুরের খবর

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নেই, ঘণ্টা পড়লেও মিলছে না পড়ার পাঠ। কারণ যিনি পড়াবেন, তাকে ছুটতে হয়েছে উপজেলা সদরের দাপ্তরিক কাজে। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আজকাল এটিই যেন নিত্যদিনের দৃশ্য।
উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতেই নেই কোনো নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। কোথাও পাঁচ থেকে সাত বছর, আবার কোথাও টানা ১০ বছর ধরে অভিভাবকহীন অবস্থায় ধুঁকছে এসব চিকিৎসাকেন্দ্র-সমতুল্য বিদ্যাপিঠ।
নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মঞ্জুরীকৃত ছয়জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। তার ওপর প্রায় দুই বছর ধরে খালি পড়ে আছে প্রধান শিক্ষকের পদ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আইনুন নাহার ও কাকলি আক্তারের মতে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ক্লাস নিতে গিয়ে তাঁদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার চরম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান, তখন তিন-চারজন শিক্ষককে একাই সামলাতে হয় সব কটি শ্রেণির পাঠদান। ফলে শিক্ষকেরা যেমন বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে গুণগত শিক্ষা থেকে।
স্কুল শিক্ষার্থী বিপ্লব ও আয়েশা আক্তারের স্পষ্ট কথা, ক্লাসে নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় পড়া ঝুলে থাকে, যা পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক ও মিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"বছরের পর বছর একটি সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকবে না—এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানরা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিটাই শক্তভাবে গড়তে পারছে না। শিক্ষা প্রশাসনের এই দীর্ঘ উদাসীনতার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ গরিব ঘরের শিশুরা।"
নওপাড়া স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস ও প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জামান আলী জানান, শিক্ষাদানের চেয়ে এখন কাগজে-কলমে প্রশাসনিক ফাইলিং করতেই বেশি সময় চলে যাচ্ছে। একে তো প্রধান শিক্ষক নেই, তার ওপর দপ্তর পরিচালনার জন্য কোনো পিয়ন বা অফিস সহকারী নেই। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে প্রশাসনিক কাজে মনোযোগী হতে হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম সমস্যাটির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ১৭টি শূন্য পদ ও ৫টি চলতি দায়িত্বের পদ দ্রুত পূরণে কাজ চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন