রংপুর    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হেমন্তের আকাশে ধরা দিয়েছে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা

হেমন্তের আকাশে ধরা দিয়েছে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা
হেমন্তের আকাশে ধরা দিয়েছে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় খালি চোখে দেখা মিলছে হিমালয়ের অপরূপ পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য। ভোরের প্রথম আলোয় কখনও লাল,কখনও গোলাপি, আবার কখনো শুভ্র বরফে মোড়ানো রুপ ধরা দিচ্ছে এই পর্বত চূড়া। মুগ্ধতা ছড়ানো এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত তিনদিন ধরে উত্তরের এই জেলায় দেখা মিলছে হিমালয়ের এই পর্বত শৃঙ্গের। মেঘমুক্ত আকাশ থাকার কারণে চোখের সামনে জল জল করছে এই পর্বত। এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়া ভিড় করছেন আগত পর্যটকরা। ইতোমধ্যে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার সকল সরকারি বেসরকারি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং হয়েছে।

জানা যায়, মেঘমুক্ত আকাশে ধরা দেয় হিমালয়ে দ্বিতীয় উচ্চতম ও বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় বদলে যায় রং। কখনও লালচে, কখনও গোলাপি,আবার কখনও শুভ্র সাদা , প্রকৃতির এমন রঙ্গিন আয়োজনে মুগ্ধ পর্যটকরা।

স্থানীয় ও পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, হেমন্তের এই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা মেলো কাঞ্চনজঙ্ঘার। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য ফুটে উঠে এবং উপভোগ করা যায় এই পর্বত শৃঙ্গের। তবে আবহাওয়া ও মেঘের আনাগোনার কারণে সব দিন সমানভাবে দেখা মেলে না।

হিমালয়ের বরফ ঢাকা এই পর্বত চূড়া দেখতে ভিসা করে যাদের ভারতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তারা এই সময়ে দেশের মাটিতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করেন। হেমন্তের নির্মল আকাশে প্রকৃতির এই অপার বিস্ময়ই এখন টানছে প্রকৃতি প্রেমীদের।

এদিকে কয়েক দিন অপেক্ষার পর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দর্শনার্থীরা। কেউ মুঠোফোনে, কেউবা ক্যামেরায় ধারণ করছেন হিমালয়ের এই অপরূপ দৃশ্য। শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর তীর ও ডাকবাংলো এলাকায় ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটন বিকাশে সরকারে নতুন উদ্যােগের দাবী আগত পর্যটকদের।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা রুহাইনা তাবাসসুম রোজা নামে এক তরুণী বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যই তেঁতুলিয়ায় আসা৷ ঘুম থেকে উঠে ভোরবেলা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরিশ সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। আসলেই অসাধারণ।

একই কথা বলেন আব্দুর রাজ্জাক নামে আরেক পর্যটক, তিনি বলেন, গতবার এসেও দেখা পাইনি কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিচ্ছে, দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লেগেছে। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পরিবেশটা আরো ভালো করা দরকার।

এদিকে আহনাফ আবরার রিমন বলেন,তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে এসেছি বন্ধুদের সাথে । কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য ও তেঁতুলিয়ার পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা আবাসিকে রুম না পেয়ে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে উঠেছিলাম। অসাধারণ একটি দিন কেটেছে।

এদিকে স্থানীয় ভ্যানচালক রাশেদ আলী বলেন, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস আমরা ভাড়া পাই। এ সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অনেক পর্যটন দেখতে আসে। তাদের ভ্যানে উঠিয়ে আমরা ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াই। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।

এদিকে পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় ব্যক্তি উদ্যােগে বেশ কিছু গড়ে উঠছে আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন মৌসুমের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো মেঘালয় রিসোর্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব বলেন,আমাদের আবার আমাদের রিসোর্টে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব রুম বুকিং। এই সময়ে অনেক পর্যটক পাই আমরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায়। মূলত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে৷ তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, নিরাপত্তা যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে৷ পর্যটন বিকাশে আরো নতুন উদ্যোগ নেয়া হবেও বলে জানান তিনি।

বিষয় : পঞ্চগড়ের খবর তেঁতুলিয়া

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


হেমন্তের আকাশে ধরা দিয়েছে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় খালি চোখে দেখা মিলছে হিমালয়ের অপরূপ পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য। ভোরের প্রথম আলোয় কখনও লাল,কখনও গোলাপি, আবার কখনো শুভ্র বরফে মোড়ানো রুপ ধরা দিচ্ছে এই পর্বত চূড়া। মুগ্ধতা ছড়ানো এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত তিনদিন ধরে উত্তরের এই জেলায় দেখা মিলছে হিমালয়ের এই পর্বত শৃঙ্গের। মেঘমুক্ত আকাশ থাকার কারণে চোখের সামনে জল জল করছে এই পর্বত। এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়া ভিড় করছেন আগত পর্যটকরা। ইতোমধ্যে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার সকল সরকারি বেসরকারি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং হয়েছে।

জানা যায়, মেঘমুক্ত আকাশে ধরা দেয় হিমালয়ে দ্বিতীয় উচ্চতম ও বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় বদলে যায় রং। কখনও লালচে, কখনও গোলাপি,আবার কখনও শুভ্র সাদা , প্রকৃতির এমন রঙ্গিন আয়োজনে মুগ্ধ পর্যটকরা।

স্থানীয় ও পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, হেমন্তের এই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা মেলো কাঞ্চনজঙ্ঘার। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য ফুটে উঠে এবং উপভোগ করা যায় এই পর্বত শৃঙ্গের। তবে আবহাওয়া ও মেঘের আনাগোনার কারণে সব দিন সমানভাবে দেখা মেলে না।

হিমালয়ের বরফ ঢাকা এই পর্বত চূড়া দেখতে ভিসা করে যাদের ভারতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তারা এই সময়ে দেশের মাটিতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করেন। হেমন্তের নির্মল আকাশে প্রকৃতির এই অপার বিস্ময়ই এখন টানছে প্রকৃতি প্রেমীদের।

এদিকে কয়েক দিন অপেক্ষার পর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দর্শনার্থীরা। কেউ মুঠোফোনে, কেউবা ক্যামেরায় ধারণ করছেন হিমালয়ের এই অপরূপ দৃশ্য। শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর তীর ও ডাকবাংলো এলাকায় ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটন বিকাশে সরকারে নতুন উদ্যােগের দাবী আগত পর্যটকদের।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা রুহাইনা তাবাসসুম রোজা নামে এক তরুণী বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যই তেঁতুলিয়ায় আসা৷ ঘুম থেকে উঠে ভোরবেলা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরিশ সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। আসলেই অসাধারণ।

একই কথা বলেন আব্দুর রাজ্জাক নামে আরেক পর্যটক, তিনি বলেন, গতবার এসেও দেখা পাইনি কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিচ্ছে, দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লেগেছে। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পরিবেশটা আরো ভালো করা দরকার।

এদিকে আহনাফ আবরার রিমন বলেন,তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে এসেছি বন্ধুদের সাথে । কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য ও তেঁতুলিয়ার পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা আবাসিকে রুম না পেয়ে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে উঠেছিলাম। অসাধারণ একটি দিন কেটেছে।

এদিকে স্থানীয় ভ্যানচালক রাশেদ আলী বলেন, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস আমরা ভাড়া পাই। এ সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অনেক পর্যটন দেখতে আসে। তাদের ভ্যানে উঠিয়ে আমরা ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াই। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।

এদিকে পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় ব্যক্তি উদ্যােগে বেশ কিছু গড়ে উঠছে আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন মৌসুমের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো মেঘালয় রিসোর্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব বলেন,আমাদের আবার আমাদের রিসোর্টে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব রুম বুকিং। এই সময়ে অনেক পর্যটক পাই আমরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায়। মূলত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে৷ তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, নিরাপত্তা যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে৷ পর্যটন বিকাশে আরো নতুন উদ্যোগ নেয়া হবেও বলে জানান তিনি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ