যদি প্রশ্ন করা হয়, তবে বেশিরভাগই উত্তর দেবেন, একজন সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করা সহজ নয়। এর বড় কারণ হলো তারা পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন করতে পারে না, এমনকী তারা কাজের প্রতি অনেক বেশি নিবেদিত থাকে। সবার ছুটি থাকলেও তাদের ছুটি মেলে কম। যে কারণে প্রিয়জন এবং পরিজনদের সময়ও দিতে পারে না। জেনেশুনে এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সাহস ক’জনেরই বা থাকে!
কিন্তু এই প্রতিকূলতার পাহাড় পেরিয়েও যখন কেউ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন, তখন সেই সম্পর্কের গভীরতা হয় অন্য যেকোনো গল্পের চেয়ে আলাদা। খবরের পেছনের মানুষটিকে আপন করে নেওয়ার সেই অনন্য যাত্রারই এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হলো:
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে চারিদিকে যখন ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তির জয়জয়কার, তখন আপনার পাশে থাকবেন একজন হাঁড়ির খবর জানা মানুষ। ঘটনার আড়ালের সত্যটা কী, কোন গুজবের ভিত্তি কতটুকু—তা বোঝার জন্য আপনাকে অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। আপনার চা কিংবা কফির টেবিলটিই হয়ে উঠবে শহরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র।
পেশার খাতিরে প্রতিদিন একজন সাংবাদিককে মেলামেশা করতে হয় ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষটির সঙ্গেও। এই বিচিত্র মানুষের অভিজ্ঞতা ও জীবনের গল্প তাঁদের ঝুলিতে জমা থাকে। ফলে দিনশেষে একসাথে বসে কথা বলার সময় কোনো একঘেয়েমি গ্রাস করবে না; আলোচনায় থাকবে সমাজ, শিল্প, জীবনের গভীরতা ও অফুরন্ত নতুন গল্প।
ভালো সাংবাদিকতার প্রধান শর্তই হলো ভালো শ্রোতা হওয়া। তারা না বলা কথা আর চোখের ভাষাও সহজে পড়তে পারেন। সম্পর্কের মধ্যবর্তী ভুল বোঝাবুঝি বা মনের টানাপোড়েনগুলোতে একজন সাংবাদিক সঙ্গী আপনাকে শান্তভাবে শুনবেন এবং কোনো পূর্বপ্রস্তুত বিচার ছাড়াই পরিস্থিতির ইতিবাচক বিশ্লেষণ করবেন।
একটি ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষ যখন আতঙ্কিত বা দিকবিদিকশূন্য হয়ে পড়েন, সাংবাদিকের মস্তিষ্ক তখন সবচেয়ে ঠান্ডা ও কার্যকর থাকে। কারণ প্রতিকূল ও আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সঠিক পথ খোঁজা তাঁদের প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত। জীবনসঙ্গী হিসেবে সংকটের দিনে তাঁর এই গুণটি আপনার কাছে পাহাড়ের মতো আস্থা হয়ে দাঁড়াবে।
সাধারণ পর্যটকের মতো শুধু চিহ্নিত পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নয়; একজন সাংবাদিকের সঙ্গে পথ চললে আপনি দেখতে পাবেন কোনো জায়গার মূল চরিত্র, সংস্কৃতি ও লুকিয়ে থাকা অপার সৌন্দর্য। সাধারণ চোখের আড়ালে থাকা গল্পগুলো খুঁজে বের করার একটা 'তৃতীয় চোখ' তাঁদের থাকে, যা আপনার জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, চিকিৎসা ক্ষেত্র, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা আইনি বিশেষজ্ঞ—সামাজিক প্রতিটি স্তরে তাঁদের বস্তুনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকে। নিজেদের কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং বিপদে-আপদে কিংবা সাধারণ প্রশাসনিক সহায়তায় এই শক্তিশালী যোগাযোগ জীবনকে অনেকটাই সহজ ও চাপমুক্ত করে দেয়।
যাঁদের প্রতিদিনের অস্ত্রই হলো শব্দ, আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের কৃপণতা দেখানোর সুযোগ থাকে না। জন্মদিনে বা বিশেষ কোনো ক্ষণে অন্যান্য সাধারণ উপহারের চেয়ে তাঁদের একটি ছোট্ট চিরকুট, প্রেমপত্র বা বার্তা আপনার মনের গভীরে বেশি দাগ কাটবে। তাঁরা শব্দ দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানেন।
প্রতিটি মানুষের নিজস্ব এক টুকরো আকাশ বা ব্যক্তিগত সময় (Personal Space) প্রয়োজন। সাংবাদিকরা নিজেদের কাজের ধরণ ও ব্যস্ততার কারণে এই স্বাধীনতার মূল্য খুব ভালো বোঝেন। আপনার পেশা, সখ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনকে তারা কখনোই অনর্থক সন্দেহের বেড়াজালে কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর নজরদারিতে বন্দি করবেন না।
সংবাদের স্বার্থে তাঁদের শিখতে হয় আবেগ সরিয়ে রেখে ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিচার করতে। পারিবারিক নানা টানাপোড়েন বা মতভেদের ক্ষেত্রেও তাঁরা কোনো একপেশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত অবস্থান নিতে পারেন। এই নিরপেক্ষতা একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
চরম প্রতিকূল আবহাওয়া, অপ্রতুল খাবার বা নির্ঘুম রাতের সঙ্গে লড়াই করেই সাংবাদিকরা নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়েন। জীবনযাপনে অহেতুক বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতা তাঁদের বেশি থাকে। ফলে জীবনের কঠিন বা অভাবের দিনেও তাঁরা ভেঙে পড়েন না, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে জানেন।
আপনার সঙ্গী যখন তাঁর একটি লেখা বা রিপোর্টের মাধ্যমে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, কোনো অসহায় মানুষের পাশে সমাজকে দাঁড় করান কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নড়িয়ে দেন—সেই কৃতিত্ব ও গর্বের ভাগিদার আপনিও হন। একজন প্রভাবশালী ও সৎ মনের মানুষের পাশে থাকার এই সম্মান ও আত্মতৃপ্তি সত্যিই দুর্লভ।
বিষয় : সাংবাদিক

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
যদি প্রশ্ন করা হয়, তবে বেশিরভাগই উত্তর দেবেন, একজন সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করা সহজ নয়। এর বড় কারণ হলো তারা পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন করতে পারে না, এমনকী তারা কাজের প্রতি অনেক বেশি নিবেদিত থাকে। সবার ছুটি থাকলেও তাদের ছুটি মেলে কম। যে কারণে প্রিয়জন এবং পরিজনদের সময়ও দিতে পারে না। জেনেশুনে এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সাহস ক’জনেরই বা থাকে!
কিন্তু এই প্রতিকূলতার পাহাড় পেরিয়েও যখন কেউ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন, তখন সেই সম্পর্কের গভীরতা হয় অন্য যেকোনো গল্পের চেয়ে আলাদা। খবরের পেছনের মানুষটিকে আপন করে নেওয়ার সেই অনন্য যাত্রারই এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হলো:
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে চারিদিকে যখন ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তির জয়জয়কার, তখন আপনার পাশে থাকবেন একজন হাঁড়ির খবর জানা মানুষ। ঘটনার আড়ালের সত্যটা কী, কোন গুজবের ভিত্তি কতটুকু—তা বোঝার জন্য আপনাকে অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। আপনার চা কিংবা কফির টেবিলটিই হয়ে উঠবে শহরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র।
পেশার খাতিরে প্রতিদিন একজন সাংবাদিককে মেলামেশা করতে হয় ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষটির সঙ্গেও। এই বিচিত্র মানুষের অভিজ্ঞতা ও জীবনের গল্প তাঁদের ঝুলিতে জমা থাকে। ফলে দিনশেষে একসাথে বসে কথা বলার সময় কোনো একঘেয়েমি গ্রাস করবে না; আলোচনায় থাকবে সমাজ, শিল্প, জীবনের গভীরতা ও অফুরন্ত নতুন গল্প।
ভালো সাংবাদিকতার প্রধান শর্তই হলো ভালো শ্রোতা হওয়া। তারা না বলা কথা আর চোখের ভাষাও সহজে পড়তে পারেন। সম্পর্কের মধ্যবর্তী ভুল বোঝাবুঝি বা মনের টানাপোড়েনগুলোতে একজন সাংবাদিক সঙ্গী আপনাকে শান্তভাবে শুনবেন এবং কোনো পূর্বপ্রস্তুত বিচার ছাড়াই পরিস্থিতির ইতিবাচক বিশ্লেষণ করবেন।
একটি ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষ যখন আতঙ্কিত বা দিকবিদিকশূন্য হয়ে পড়েন, সাংবাদিকের মস্তিষ্ক তখন সবচেয়ে ঠান্ডা ও কার্যকর থাকে। কারণ প্রতিকূল ও আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সঠিক পথ খোঁজা তাঁদের প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত। জীবনসঙ্গী হিসেবে সংকটের দিনে তাঁর এই গুণটি আপনার কাছে পাহাড়ের মতো আস্থা হয়ে দাঁড়াবে।
সাধারণ পর্যটকের মতো শুধু চিহ্নিত পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নয়; একজন সাংবাদিকের সঙ্গে পথ চললে আপনি দেখতে পাবেন কোনো জায়গার মূল চরিত্র, সংস্কৃতি ও লুকিয়ে থাকা অপার সৌন্দর্য। সাধারণ চোখের আড়ালে থাকা গল্পগুলো খুঁজে বের করার একটা 'তৃতীয় চোখ' তাঁদের থাকে, যা আপনার জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, চিকিৎসা ক্ষেত্র, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা আইনি বিশেষজ্ঞ—সামাজিক প্রতিটি স্তরে তাঁদের বস্তুনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকে। নিজেদের কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং বিপদে-আপদে কিংবা সাধারণ প্রশাসনিক সহায়তায় এই শক্তিশালী যোগাযোগ জীবনকে অনেকটাই সহজ ও চাপমুক্ত করে দেয়।
যাঁদের প্রতিদিনের অস্ত্রই হলো শব্দ, আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের কৃপণতা দেখানোর সুযোগ থাকে না। জন্মদিনে বা বিশেষ কোনো ক্ষণে অন্যান্য সাধারণ উপহারের চেয়ে তাঁদের একটি ছোট্ট চিরকুট, প্রেমপত্র বা বার্তা আপনার মনের গভীরে বেশি দাগ কাটবে। তাঁরা শব্দ দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানেন।
প্রতিটি মানুষের নিজস্ব এক টুকরো আকাশ বা ব্যক্তিগত সময় (Personal Space) প্রয়োজন। সাংবাদিকরা নিজেদের কাজের ধরণ ও ব্যস্ততার কারণে এই স্বাধীনতার মূল্য খুব ভালো বোঝেন। আপনার পেশা, সখ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনকে তারা কখনোই অনর্থক সন্দেহের বেড়াজালে কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর নজরদারিতে বন্দি করবেন না।
সংবাদের স্বার্থে তাঁদের শিখতে হয় আবেগ সরিয়ে রেখে ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিচার করতে। পারিবারিক নানা টানাপোড়েন বা মতভেদের ক্ষেত্রেও তাঁরা কোনো একপেশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত অবস্থান নিতে পারেন। এই নিরপেক্ষতা একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
চরম প্রতিকূল আবহাওয়া, অপ্রতুল খাবার বা নির্ঘুম রাতের সঙ্গে লড়াই করেই সাংবাদিকরা নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়েন। জীবনযাপনে অহেতুক বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতা তাঁদের বেশি থাকে। ফলে জীবনের কঠিন বা অভাবের দিনেও তাঁরা ভেঙে পড়েন না, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে জানেন।
আপনার সঙ্গী যখন তাঁর একটি লেখা বা রিপোর্টের মাধ্যমে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, কোনো অসহায় মানুষের পাশে সমাজকে দাঁড় করান কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নড়িয়ে দেন—সেই কৃতিত্ব ও গর্বের ভাগিদার আপনিও হন। একজন প্রভাবশালী ও সৎ মনের মানুষের পাশে থাকার এই সম্মান ও আত্মতৃপ্তি সত্যিই দুর্লভ।

আপনার মতামত লিখুন