রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নামে একাধিক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় কালবেলার ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। এ সময় সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করা শুরু করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নাঈম ইসলাম উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দার গ্রামের বাসিন্দা এবং ইটাকুমারী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মায়ের এনআইডি জটিলতার কারণে গত ৪-৫ মাস ধরে নাঈমকে ইউএনও কার্যালয়ে ঘোরাচ্ছিলেন অফিস সহায়ক মমিনুল। একপর্যায়ে কাজ করে দেওয়ার নামে প্রথমে ১০ হাজার এবং পরে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন মমিনুল।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই টাকার জন্য নাঈমকে তাগাদা দিতে থাকেন মমিনুল। নাঈম টাকা নিয়ে উপজেলা পরিষদের গেটে এলে মমিনুল তাকে গোপনে রেলস্টেশনের পাশে শিমুলতলায় ডাকেন। সেখানে আগে থেকেই কালবেলার প্রতিবেদক ও আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ওত পেতে ছিলেন। নাঈম টাকা হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মমিনুলের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজের নাম ও পদবী অস্বীকার করেন এবং নিজেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী বলে দাবি করেন।
ঐ সময়ই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মাইমুনা খাতুন নামের আরেক ভুক্তভোগী নারী। তিনি মমিনুলের সামনেই অভিযোগ করেন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য মমিনুল তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন এবং আরও টাকার জন্য তার নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। গোলাপ মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ইউএনও’র স্বাক্ষর নিয়ে দেওয়ার কথা বলে মমিনুল তার কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চতুর্মুখী অভিযোগ ও ক্যামেরার সামনে মমিনুল একপর্যায়ে "টাকা ফেরত দেব" বলে ঝড়ের গতিতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন,
"জন্ম নিবন্ধনের মূল কার্যক্রম তো অফিস সহায়কের হাতে থাকার কথা নয়। সে যদি কাউকে ভুল বুঝিয়ে এমন কোনো অবৈধ সুবিধা বা ঘুষ নিয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"
বিষয় : অবরাধ ঘুষ বাণিজ্য

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নামে একাধিক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় কালবেলার ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। এ সময় সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করা শুরু করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নাঈম ইসলাম উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দার গ্রামের বাসিন্দা এবং ইটাকুমারী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মায়ের এনআইডি জটিলতার কারণে গত ৪-৫ মাস ধরে নাঈমকে ইউএনও কার্যালয়ে ঘোরাচ্ছিলেন অফিস সহায়ক মমিনুল। একপর্যায়ে কাজ করে দেওয়ার নামে প্রথমে ১০ হাজার এবং পরে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন মমিনুল।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই টাকার জন্য নাঈমকে তাগাদা দিতে থাকেন মমিনুল। নাঈম টাকা নিয়ে উপজেলা পরিষদের গেটে এলে মমিনুল তাকে গোপনে রেলস্টেশনের পাশে শিমুলতলায় ডাকেন। সেখানে আগে থেকেই কালবেলার প্রতিবেদক ও আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ওত পেতে ছিলেন। নাঈম টাকা হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মমিনুলের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজের নাম ও পদবী অস্বীকার করেন এবং নিজেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী বলে দাবি করেন।
ঐ সময়ই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মাইমুনা খাতুন নামের আরেক ভুক্তভোগী নারী। তিনি মমিনুলের সামনেই অভিযোগ করেন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য মমিনুল তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন এবং আরও টাকার জন্য তার নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। গোলাপ মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ইউএনও’র স্বাক্ষর নিয়ে দেওয়ার কথা বলে মমিনুল তার কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চতুর্মুখী অভিযোগ ও ক্যামেরার সামনে মমিনুল একপর্যায়ে "টাকা ফেরত দেব" বলে ঝড়ের গতিতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন,
"জন্ম নিবন্ধনের মূল কার্যক্রম তো অফিস সহায়কের হাতে থাকার কথা নয়। সে যদি কাউকে ভুল বুঝিয়ে এমন কোনো অবৈধ সুবিধা বা ঘুষ নিয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"

আপনার মতামত লিখুন