রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোনাব্বর হোসেনের আকস্মিক বদলির আদেশ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এক বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করলেও নিজের অনন্য কর্মদক্ষতা, সততা আর আপসহীন জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মন, বিদায়লগ্নে এই কর্মবীর কর্মকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর মতো একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে ধরে রাখতে বদলি আদেশ বাতিল করে পুনর্বহালের জোরালো দাবি উঠেছে গোটা এলাকায়।
তারাগঞ্জের স্থানীয় সুধী সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ পেশাজীবীদের সাথে কথা বলে মাঠপর্যায়ের এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ চিত্র সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোনাব্বর হোসেন তারাগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রাচীর ভেঙে প্রশাসনকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত কার্যকালে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি স্বল্প সময়েই উপজেলার সামগ্রিক চেহারায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন।
বিশেষ করে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় উপজেলার প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি উপকৃত হয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর আকস্মিক পরিদর্শন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কঠোর উদ্যোগ সচেতন অভিভাবক মহলকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে।
এছাড়া সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো ও অপরাধ দূরীকরণে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে এসেছে। একই সাথে অপ-সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করে এলাকায় একটি সুস্থ, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তারাগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, বিদায়ী এই কর্মকর্তা স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রভাবমুক্ত রেখে সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ প্রতীকে পরিণত করেছিলেন। একজন সৎ, কর্মঠ ও সততার প্রতীক এই কর্মকর্তার আকস্মিক বিদায় তারাগঞ্জবাসীর জন্য এক বড় ধাক্কা।
তারাগঞ্জের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ এলাকাবাসী অবিলম্বে এই কর্মবীর কর্মকর্তা মোঃ মোনাব্বর হোসেনের বদলি আদেশ বাতিল করে তাঁকে তারাগঞ্জেই বহাল রাখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
জুফাস নিউজ/সরিতউ
বিষয় : তারাগঞ্জ তারাগঞ্জ উপজেলার খবর ইউএনও

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোনাব্বর হোসেনের আকস্মিক বদলির আদেশ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এক বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করলেও নিজের অনন্য কর্মদক্ষতা, সততা আর আপসহীন জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মন, বিদায়লগ্নে এই কর্মবীর কর্মকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর মতো একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে ধরে রাখতে বদলি আদেশ বাতিল করে পুনর্বহালের জোরালো দাবি উঠেছে গোটা এলাকায়।
তারাগঞ্জের স্থানীয় সুধী সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ পেশাজীবীদের সাথে কথা বলে মাঠপর্যায়ের এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ চিত্র সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোনাব্বর হোসেন তারাগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রাচীর ভেঙে প্রশাসনকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত কার্যকালে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি স্বল্প সময়েই উপজেলার সামগ্রিক চেহারায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন।
বিশেষ করে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় উপজেলার প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি উপকৃত হয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর আকস্মিক পরিদর্শন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কঠোর উদ্যোগ সচেতন অভিভাবক মহলকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে।
এছাড়া সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো ও অপরাধ দূরীকরণে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে এসেছে। একই সাথে অপ-সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করে এলাকায় একটি সুস্থ, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তারাগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, বিদায়ী এই কর্মকর্তা স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রভাবমুক্ত রেখে সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ প্রতীকে পরিণত করেছিলেন। একজন সৎ, কর্মঠ ও সততার প্রতীক এই কর্মকর্তার আকস্মিক বিদায় তারাগঞ্জবাসীর জন্য এক বড় ধাক্কা।
তারাগঞ্জের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ এলাকাবাসী অবিলম্বে এই কর্মবীর কর্মকর্তা মোঃ মোনাব্বর হোসেনের বদলি আদেশ বাতিল করে তাঁকে তারাগঞ্জেই বহাল রাখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
জুফাস নিউজ/সরিতউ

আপনার মতামত লিখুন