ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে জেলার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (আরসিআইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ উদ্যোগকে জেলার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ খাতের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকনির্দেশনায় এলজিইডি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করা হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দিনাজপুর এনএইচডব্লিউ থেকে খোচাবাড়ী জিসি হয়ে নারগুন ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেট থেকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
রুহিয়া সিনেমা হল ১১ মাইল এনএইচডব্লিউ থেকে দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
ঠাকুরগাঁও থেকে আটোয়ারী আরএন্ডএইচ (রুহিয়া) থেকে রামনাথহাট জিসি সড়ক
রামনাথ জিসি থেকে লাহিড়ী জিসি সড়ক
বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাবদালহাট সড়ক
পল্লী বিদ্যুৎহাট থেকে রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক
আধার দিঘিহাট থেকে আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস (স্কুলহাট) হয়ে উদয়পুর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক
মিরডাঙ্গীহাট থেকে যাদুরাণী জিসি সড়ক
হরিপুর হেডকোয়ার্টার থেকে ধীরগঞ্জ জিসি সড়ক
পীরগঞ্জ থেকে ফকিরগঞ্জহাট হয়ে হাজীপুর থেকে সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক
সম্প্রতি একাধিক উন্নয়ন সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো রাস্তাই কাঁচা রাখা হবে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, “মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি। প্রতিটি সড়ক আধুনিক মানদণ্ডে প্রশস্ত করা হবে এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। নারগুন ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, বর্ষায় ফসল বাজারে নিতে তাঁদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো, যা সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে সমাধান হবে। একই কথা বলেন গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান; তাঁর মতে, সড়কের কারণে নিত্যদিনের যানজট ও দুর্ঘটনা কমে ব্যবসায় গতি ফিরবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একসঙ্গে এতগুলো সড়ক প্রশস্ত হলে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিষয় : ঠাকুরগাঁও সংবাদ প্রকল্প অনুমোদন

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে জেলার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (আরসিআইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ উদ্যোগকে জেলার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ খাতের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকনির্দেশনায় এলজিইডি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করা হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দিনাজপুর এনএইচডব্লিউ থেকে খোচাবাড়ী জিসি হয়ে নারগুন ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেট থেকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
রুহিয়া সিনেমা হল ১১ মাইল এনএইচডব্লিউ থেকে দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক
ঠাকুরগাঁও থেকে আটোয়ারী আরএন্ডএইচ (রুহিয়া) থেকে রামনাথহাট জিসি সড়ক
রামনাথ জিসি থেকে লাহিড়ী জিসি সড়ক
বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাবদালহাট সড়ক
পল্লী বিদ্যুৎহাট থেকে রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক
আধার দিঘিহাট থেকে আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস (স্কুলহাট) হয়ে উদয়পুর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক
মিরডাঙ্গীহাট থেকে যাদুরাণী জিসি সড়ক
হরিপুর হেডকোয়ার্টার থেকে ধীরগঞ্জ জিসি সড়ক
পীরগঞ্জ থেকে ফকিরগঞ্জহাট হয়ে হাজীপুর থেকে সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক
সম্প্রতি একাধিক উন্নয়ন সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো রাস্তাই কাঁচা রাখা হবে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, “মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি। প্রতিটি সড়ক আধুনিক মানদণ্ডে প্রশস্ত করা হবে এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। নারগুন ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, বর্ষায় ফসল বাজারে নিতে তাঁদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো, যা সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে সমাধান হবে। একই কথা বলেন গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান; তাঁর মতে, সড়কের কারণে নিত্যদিনের যানজট ও দুর্ঘটনা কমে ব্যবসায় গতি ফিরবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একসঙ্গে এতগুলো সড়ক প্রশস্ত হলে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন