রংপুর    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরে বেহাল ১০ কিমি সড়ক: শত সংস্কারেও সারেনি ক্ষত

রংপুরে বেহাল ১০ কিমি সড়ক: শত সংস্কারেও সারেনি ক্ষত
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে রংপুর মেডিকেল মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ এখন কোনো জাতীয় মহাসড়ক নয়, যেন ইট-পাথরের এক ঝুলন্ত ফাঁদ। গত তিন বছরে অন্ততঃ ১০০ বার ইটের খোয়া ও সলিং দিয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও মিলছে না নিস্তার। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হলেও সওজ ও ঠিকাদারি চক্রের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ডন এন্টারপ্রাইজ’ ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কাজ নেয়। কিন্তু কাজের শুরুতেই দেখা দেয় শুভঙ্করের ফাঁকি।

ডিবিএসটি পদ্ধতিতে ১০ কিলোমিটার কাজ করার সময় প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৫ কেজি করে পাথর কম দেওয়ার জালিয়াতি হাতেনাতে ধরেছিল টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল। প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম দিয়ে নিম্নমানের কাজ করার সেই পরিণতি এখন মহাসড়কজুড়ে স্পষ্ট।

কাজ শেষ হতে না হতেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে পুরো রাস্তা রূপ নেয় খানাখন্দে। সেই গর্ত ঢাকতে এখন পর্যন্ত শতাধিক স্থানে ১০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত ইটের সলিং বিছানো হয়েছে।

কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা নওশাদ আলী আক্ষেপ করে বলেন:

"মেডিকেল মোড় থেকে সিও বাজার পর্যন্ত মাত্র ২ কিলোমিটারেই ৫০টির বেশি জায়গায় ইটের সলিং। ইটের কোণা উঠে চাকা ফেটে যায়, গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার গর্ত ভরাট করতে দেখেছি। একই জায়গায় বারবার ইট ফেলার এই নাটক কেন?"

মহাসড়কে যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকদের গতিপথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে ঘন ঘন, যার ফলে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। শাপলা পরিবহনের বাসচালক সোনা মিয়া বলেন:

"তিন বছর ধরে পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত একই অবস্থা। গত বছর পিচ তুলে নতুন করে তৈরি করল, বছর না ঘুরতেই আবার বড় বড় গর্ত! এর চেয়ে গ্রামের কাঁচা রাস্তাও অনেক ভালো।"

দায় স্বীকার সওজের, তবে সমাধান কবে?

বারবার জোড়াতালি দিয়ে সুফল না পাওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারাও।

রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন:

"পুরোনো এই সড়কের স্থায়িত্ব ও ফ্লেক্সিবিলিটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বারবার মেরামত করে কোনো সুফল মিলবে না। সড়কটির এখন পুর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

তবে পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ইটের জোড়াতালি দিয়ে প্রতি মাসে কেন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সচেতন মহল ও স্থানীয় পরিবহণ মালিকদের।

বিষয় : রংপুরের খবর সড়ক সংস্কার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রংপুরে বেহাল ১০ কিমি সড়ক: শত সংস্কারেও সারেনি ক্ষত

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে রংপুর মেডিকেল মোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ এখন কোনো জাতীয় মহাসড়ক নয়, যেন ইট-পাথরের এক ঝুলন্ত ফাঁদ। গত তিন বছরে অন্ততঃ ১০০ বার ইটের খোয়া ও সলিং দিয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও মিলছে না নিস্তার। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হলেও সওজ ও ঠিকাদারি চক্রের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ডন এন্টারপ্রাইজ’ ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কাজ নেয়। কিন্তু কাজের শুরুতেই দেখা দেয় শুভঙ্করের ফাঁকি।

ডিবিএসটি পদ্ধতিতে ১০ কিলোমিটার কাজ করার সময় প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৫ কেজি করে পাথর কম দেওয়ার জালিয়াতি হাতেনাতে ধরেছিল টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল। প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম দিয়ে নিম্নমানের কাজ করার সেই পরিণতি এখন মহাসড়কজুড়ে স্পষ্ট।

কাজ শেষ হতে না হতেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে পুরো রাস্তা রূপ নেয় খানাখন্দে। সেই গর্ত ঢাকতে এখন পর্যন্ত শতাধিক স্থানে ১০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত ইটের সলিং বিছানো হয়েছে।

কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা নওশাদ আলী আক্ষেপ করে বলেন:

"মেডিকেল মোড় থেকে সিও বাজার পর্যন্ত মাত্র ২ কিলোমিটারেই ৫০টির বেশি জায়গায় ইটের সলিং। ইটের কোণা উঠে চাকা ফেটে যায়, গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার গর্ত ভরাট করতে দেখেছি। একই জায়গায় বারবার ইট ফেলার এই নাটক কেন?"

মহাসড়কে যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকদের গতিপথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে ঘন ঘন, যার ফলে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। শাপলা পরিবহনের বাসচালক সোনা মিয়া বলেন:

"তিন বছর ধরে পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত একই অবস্থা। গত বছর পিচ তুলে নতুন করে তৈরি করল, বছর না ঘুরতেই আবার বড় বড় গর্ত! এর চেয়ে গ্রামের কাঁচা রাস্তাও অনেক ভালো।"

দায় স্বীকার সওজের, তবে সমাধান কবে?

বারবার জোড়াতালি দিয়ে সুফল না পাওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারাও।

রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন:


"পুরোনো এই সড়কের স্থায়িত্ব ও ফ্লেক্সিবিলিটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বারবার মেরামত করে কোনো সুফল মিলবে না। সড়কটির এখন পুর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

তবে পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ইটের জোড়াতালি দিয়ে প্রতি মাসে কেন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সচেতন মহল ও স্থানীয় পরিবহণ মালিকদের।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ