ঢোল-কাঁসরের শব্দ আর কলরবে মুখরিত চারপাশ। কার আগে কে ধরবেন বড় রুই কিংবা বোয়াল—সেই প্রতিযোগিতায় একযোগে কোমরপানিতে নেমেছেন অন্তত দেড় হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী (বৈত)। গ্রামবাংলার শত বছরের স্মৃতি জাগিয়ে গাইবান্ধা পৌর শহরের আদর্শপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলদিয়ার বিলে অনুষ্ঠিত হলো এই আনন্দঘন ‘পলো বাওয়া’ উৎসব।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যের এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য দেখতে বিলের পাড়ে ভেঙে পড়েছিল উৎসুক জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে গাইবান্ধা জেলা শহরের আশপাশসহ দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে পলো, হাতজাল ও ভ্যাসেলে নিয়ে শত শত মানুষ এক জায়গায় সমবেত হন। সংকেত পাওয়া মাত্রই সবাই একসঙ্গে বিলে নেমে পড়েন।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে এই পলো বাওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে বৈতদের পলো ও জালে উঠে আসে রুই, গ্লাস কার্প, কার্পু, শোল ও বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। কারও পলোতে বড় মাছ ধরা পড়তেই চারপাশ থেকে ভেসে ওঠে আনন্দধ্বনি।
পলো বাওয়া কেবল কোনো সাধারণ মাছ ধরার অনুষ্ঠান নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব সামাজিক মিলনমেলা।
বিলে নামা প্রবীণ ও তরুণ শিকারীদের মতে, কাজের ব্যস্ততার মাঝে এভাবে দলবেঁধে আনন্দ করার সুযোগ এখন আর তেমন মেলে না। বিলে আনন্দ ভাগাভাগি আর পলোর নিচে মাছের ঘাপটি মেরে থাকার রোমাঞ্চটাই আসল।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আধুনিক মৎস্য শিকার পদ্ধতি ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দিন দিন বিলুপ্তির পথে। এই ধরনের লোকজ উৎসব গ্রামবাংলার হারানো রূপ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিষয় : গাইবান্ধার সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢোল-কাঁসরের শব্দ আর কলরবে মুখরিত চারপাশ। কার আগে কে ধরবেন বড় রুই কিংবা বোয়াল—সেই প্রতিযোগিতায় একযোগে কোমরপানিতে নেমেছেন অন্তত দেড় হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী (বৈত)। গ্রামবাংলার শত বছরের স্মৃতি জাগিয়ে গাইবান্ধা পৌর শহরের আদর্শপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলদিয়ার বিলে অনুষ্ঠিত হলো এই আনন্দঘন ‘পলো বাওয়া’ উৎসব।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যের এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য দেখতে বিলের পাড়ে ভেঙে পড়েছিল উৎসুক জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে গাইবান্ধা জেলা শহরের আশপাশসহ দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে পলো, হাতজাল ও ভ্যাসেলে নিয়ে শত শত মানুষ এক জায়গায় সমবেত হন। সংকেত পাওয়া মাত্রই সবাই একসঙ্গে বিলে নেমে পড়েন।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে এই পলো বাওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে বৈতদের পলো ও জালে উঠে আসে রুই, গ্লাস কার্প, কার্পু, শোল ও বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। কারও পলোতে বড় মাছ ধরা পড়তেই চারপাশ থেকে ভেসে ওঠে আনন্দধ্বনি।
পলো বাওয়া কেবল কোনো সাধারণ মাছ ধরার অনুষ্ঠান নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব সামাজিক মিলনমেলা।
বিলে নামা প্রবীণ ও তরুণ শিকারীদের মতে, কাজের ব্যস্ততার মাঝে এভাবে দলবেঁধে আনন্দ করার সুযোগ এখন আর তেমন মেলে না। বিলে আনন্দ ভাগাভাগি আর পলোর নিচে মাছের ঘাপটি মেরে থাকার রোমাঞ্চটাই আসল।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আধুনিক মৎস্য শিকার পদ্ধতি ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দিন দিন বিলুপ্তির পথে। এই ধরনের লোকজ উৎসব গ্রামবাংলার হারানো রূপ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বড় ভূমিকা রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন