রংপুর    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
জুফাস নিউজ

হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে ২০ টাকা

হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে ২০ টাকা
হিলির বাজারের দোকান। ছবি: সংগৃহীত

বাজারে সরবরাহ কমার অজুহাতে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্য আদার দাম। হঠাৎ করে আদার বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। বিক্রেতারা আমদানিসংকট ও ছুটির অজুহাত দেখালেও ক্ষুব্ধ ক্রেতারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের বর্তমান চিত্রজুড়ে কেবল আমদানিকৃত চায়নারাজ্য। দেশীয় আদার দেখা মিলছে না বললেই চলে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে আদা প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।

হিলি বাজারে আদা কিনতে আসা হায়দার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে রাত পোহালেই বিভিন্ন পণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ কীভাবে চলব? কিছুদিন আগেও যে আদা ১০০-১২০ টাকা কেজি কিনেছি, তা এখন ১৬০ টাকায় উঠে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। তাঁর মতে, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে আদার দামে আগুন লেগে গেল? সরকারের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

এদিকে বাজারে দেশীয় আদা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে দেশি আদার সরবরাহ নেই বললেই চলে। এতদিন ভারত ও চীন থেকে আসা আদা দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে চায়না আদার চাহিদা বেশি থাকায় সেটির ওপর চাপ বেশি থাকে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মূলত চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়া এবং চীনে আদার দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে হিলির বাজারে। তবে বন্দর দিয়ে আবার আমদানি শুরু হওয়ায় সরবরাহ বাড়লে দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজার মনিটরিং ও অনিয়ম রোধ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ (মেমো) যাচাই করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে কঠোর জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিষয় : দিনাজপুরের খবর হিলি স্থলবন্দর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে ২০ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাজারে সরবরাহ কমার অজুহাতে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্য আদার দাম। হঠাৎ করে আদার বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। বিক্রেতারা আমদানিসংকট ও ছুটির অজুহাত দেখালেও ক্ষুব্ধ ক্রেতারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের বর্তমান চিত্রজুড়ে কেবল আমদানিকৃত চায়নারাজ্য। দেশীয় আদার দেখা মিলছে না বললেই চলে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে আদা প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।

হিলি বাজারে আদা কিনতে আসা হায়দার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে রাত পোহালেই বিভিন্ন পণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ কীভাবে চলব? কিছুদিন আগেও যে আদা ১০০-১২০ টাকা কেজি কিনেছি, তা এখন ১৬০ টাকায় উঠে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। তাঁর মতে, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে আদার দামে আগুন লেগে গেল? সরকারের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

এদিকে বাজারে দেশীয় আদা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে দেশি আদার সরবরাহ নেই বললেই চলে। এতদিন ভারত ও চীন থেকে আসা আদা দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে চায়না আদার চাহিদা বেশি থাকায় সেটির ওপর চাপ বেশি থাকে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ৭ থেকে ৮ দিন আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মূলত চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়া এবং চীনে আদার দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে হিলির বাজারে। তবে বন্দর দিয়ে আবার আমদানি শুরু হওয়ায় সরবরাহ বাড়লে দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজার মনিটরিং ও অনিয়ম রোধ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ (মেমো) যাচাই করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে কঠোর জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ