কাগজে-কলমে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উঠলেও বাস্তবে চালু হওয়ার কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না রংপুরের বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক শ্যামপুর চিনিকলে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আখ মাড়াই বন্ধ থাকায় শত কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখন মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে চিনিকল প্রাঙ্গণ ঢেকে গেছে ঘন জঙ্গল ও আগাছায়।
২০২০ সালে হঠাৎ করে এই কারখানার আখ মাড়াই স্থগিত করে তৎকালীন সরকার। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার কারখানা চালুর ওপর থেকে প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ তুলে নিলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার বা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
কারখানা বন্ধ থাকলেও থেমে নেই দেনা ও সুদের হিসাব। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও মিল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শ্যামপুর চিনিকলের মোট দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কারখানায় বর্তমানে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পদে থাকা ৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিতেই হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-শ্রমিক এবং কাঁচামাল সরবরাহকারীরা; বছরের পর বছর পার হলেও তাঁদের বকেয়া পাওনা মেটানো সম্ভব হয়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে কারখানাটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় শিল্প বিশেষজ্ঞ ও কৃষক নেতাদের মতে, এ ধরনের ভারী শিল্পে পিপিপি পদ্ধতি প্রয়োগ করা ‘আত্মঘাতী’ হতে পারে, কারণ এতে চিনিকলটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এদিকে চিনিকলটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান বাস্তবতার কঠিন চিত্র। তিনি বলেন:
"সরকার যদি আজকেই কারখানা চালুর চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি মেরামত, কারখানা আধুনিকায়ন এবং নতুন করে আখ চাষের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কাঁচামাল প্রস্তুত করে মাড়াইয়ে ফিরতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে।"
একসময় বদরগঞ্জসহ আশপাশের অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল এই শ্যামপুর চিনিকল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আখচাষিরা বিকল্প ফসলে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে হুট করে কারখানা চালু করলেও কাঁচামাল সংকটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানাটি দ্রুত সরকারি অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আখচাষি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
বিষয় : রংপুরের খবর বদরগঞ্জ শ্যামপুর চিনি কল

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
কাগজে-কলমে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উঠলেও বাস্তবে চালু হওয়ার কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না রংপুরের বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক শ্যামপুর চিনিকলে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আখ মাড়াই বন্ধ থাকায় শত কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখন মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে চিনিকল প্রাঙ্গণ ঢেকে গেছে ঘন জঙ্গল ও আগাছায়।
২০২০ সালে হঠাৎ করে এই কারখানার আখ মাড়াই স্থগিত করে তৎকালীন সরকার। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার কারখানা চালুর ওপর থেকে প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ তুলে নিলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার বা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
কারখানা বন্ধ থাকলেও থেমে নেই দেনা ও সুদের হিসাব। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও মিল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শ্যামপুর চিনিকলের মোট দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কারখানায় বর্তমানে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পদে থাকা ৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিতেই হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-শ্রমিক এবং কাঁচামাল সরবরাহকারীরা; বছরের পর বছর পার হলেও তাঁদের বকেয়া পাওনা মেটানো সম্ভব হয়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে কারখানাটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় শিল্প বিশেষজ্ঞ ও কৃষক নেতাদের মতে, এ ধরনের ভারী শিল্পে পিপিপি পদ্ধতি প্রয়োগ করা ‘আত্মঘাতী’ হতে পারে, কারণ এতে চিনিকলটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এদিকে চিনিকলটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান বাস্তবতার কঠিন চিত্র। তিনি বলেন:
"সরকার যদি আজকেই কারখানা চালুর চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি মেরামত, কারখানা আধুনিকায়ন এবং নতুন করে আখ চাষের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কাঁচামাল প্রস্তুত করে মাড়াইয়ে ফিরতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে।"
একসময় বদরগঞ্জসহ আশপাশের অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল এই শ্যামপুর চিনিকল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আখচাষিরা বিকল্প ফসলে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে হুট করে কারখানা চালু করলেও কাঁচামাল সংকটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানাটি দ্রুত সরকারি অর্থায়নে আধুনিকায়ন করে চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আখচাষি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন