রংপুর    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
জুফাস নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়তি দামে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ, মাস ফুরানোর আগেই টাকা শেষ

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়তি দামে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ, মাস ফুরানোর আগেই টাকা শেষ
ছবি: জুফাস নিউজ

সবজির বাজারে আংশিক ওঠানামা থাকলেও চাল, ডাল, তেল ও প্রাণিজ আমিষের চড়া মূল্যে হাঁসফাঁস অবস্থা ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে গত তিন মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগিসহ খাসি ও গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ফলে বাজার করতে এসে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশায় ভুগছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, পটল, কাকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম তুলনামূলক চড়া। একই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢ্যাড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাকের দামও সাধারণ মানুষের পকেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। যদিও কিছু সবজির দর কিছুটা উঠানামা করছে, তবে মূল চাল-ডাল এবং মাছ-মাংসের উচ্চমূল্য সামগ্রিক বাজারে স্বস্তির কোনো সুযোগ দিচ্ছে না।

বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র তিন মাস আগেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা, সোনালিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি মুরগিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে লাল মাংসের বাজারেও। গত তিন মাসে খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং গরুর মাংসের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন মাস আগে ছিল যথাক্রমে ৯৫০-১,০০০ টাকা এবং ৬৭০-৭০০ টাকা। প্রজাতিভেদে মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ডিম হালিপ্রতি ৪৪ টাকা এবং ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক মাস ধরে ওঠানামার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়কে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালীবাড়ি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ট্রাকের ট্রিপ খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দূরপাল্লার প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে, যা ক্ষেত্রবিশেষে আগের ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। গ্রাম অঞ্চল থেকে সবজি সংগ্রহ ও পরিবহন খরচের পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে পণ্য পচে যাওয়ার ঝুঁকিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে চাল ব্যবসায়ী হামিদ জানান, পাইকারি বাজারেই বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচসহ সার্বিক পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন কাটছাঁট করে হিসাব করে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা দিনমজুর মো. ইসলাম, তরিকুল ও ভবেশ চন্দ্র তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। দৈনিক যে টাকা আয় করি, তা দিয়ে চাল, ডাল ও তেল কেনার পরই টাকা শেষ হয়ে যায়। বাজারে এসে হিসাব করেও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। আয় তো আর বাজারের দামের সঙ্গে বাড়ে না। এভাবে চললে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন।"

বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.এস.এম. মাসুম-উদ-দৌলা জানান, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে, দৃশ্যমান মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় তদারকি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে ভোক্তাদের অধিদপ্তরে লিখিত বা সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিষয় : ঠাকুরগাঁও সংবাদ বাজার-দর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়তি দামে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ, মাস ফুরানোর আগেই টাকা শেষ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সবজির বাজারে আংশিক ওঠানামা থাকলেও চাল, ডাল, তেল ও প্রাণিজ আমিষের চড়া মূল্যে হাঁসফাঁস অবস্থা ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে গত তিন মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগিসহ খাসি ও গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ফলে বাজার করতে এসে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশায় ভুগছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, পটল, কাকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম তুলনামূলক চড়া। একই সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢ্যাড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাকের দামও সাধারণ মানুষের পকেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। যদিও কিছু সবজির দর কিছুটা উঠানামা করছে, তবে মূল চাল-ডাল এবং মাছ-মাংসের উচ্চমূল্য সামগ্রিক বাজারে স্বস্তির কোনো সুযোগ দিচ্ছে না।

বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র তিন মাস আগেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা, সোনালিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি মুরগিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে লাল মাংসের বাজারেও। গত তিন মাসে খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং গরুর মাংসের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন মাস আগে ছিল যথাক্রমে ৯৫০-১,০০০ টাকা এবং ৬৭০-৭০০ টাকা। প্রজাতিভেদে মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ডিম হালিপ্রতি ৪৪ টাকা এবং ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক মাস ধরে ওঠানামার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়কে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কালীবাড়ি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ট্রাকের ট্রিপ খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দূরপাল্লার প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে, যা ক্ষেত্রবিশেষে আগের ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। গ্রাম অঞ্চল থেকে সবজি সংগ্রহ ও পরিবহন খরচের পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে পণ্য পচে যাওয়ার ঝুঁকিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে চাল ব্যবসায়ী হামিদ জানান, পাইকারি বাজারেই বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচসহ সার্বিক পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন কাটছাঁট করে হিসাব করে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা দিনমজুর মো. ইসলাম, তরিকুল ও ভবেশ চন্দ্র তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। দৈনিক যে টাকা আয় করি, তা দিয়ে চাল, ডাল ও তেল কেনার পরই টাকা শেষ হয়ে যায়। বাজারে এসে হিসাব করেও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। আয় তো আর বাজারের দামের সঙ্গে বাড়ে না। এভাবে চললে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন।"

বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.এস.এম. মাসুম-উদ-দৌলা জানান, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে, দৃশ্যমান মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় তদারকি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে ভোক্তাদের অধিদপ্তরে লিখিত বা সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ