রংপুর    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ লোডশেডিং, রাতভর দুর্ভোগে অতিষ্ঠ জনজীবন

বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ লোডশেডিং, রাতভর দুর্ভোগে অতিষ্ঠ জনজীবন
প্রতিকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট রবিবার (২৮ জুন) সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় পুরো উপজেলাজুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরম ও অসহনীয় আবহাওয়ার মধ্যে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগী এক গ্রাহক জুফাস নিউজকে জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া শুরু হয়। কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ থাকলেও আবার চলে যাচ্ছিল। পুরো রাতজুড়ে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকে। অসহনীয় গরমে ঘুমানো তো দূরের কথা, ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত নম্বরে তিনি একের পর এক ফোন করেন। মোট ৮৪ বার ফোন করেও অধিকাংশ সময় নম্বরটি ব্যস্ত পান অথবা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। অবশেষে ৮৫তম চেষ্টায় ফোন ধরলেও কোনো কার্যকর সমাধান বা আশ্বস্ত করার মতো তথ্য পাননি।

ওই গ্রাহকের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ৩০ বার বিদ্যুৎ এসেছে এবং গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যান, ফ্রিজ, পানির মোটরসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

এদিকে শুধু একটি পরিবার নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাতে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া দোকানপাট, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টারনেটনির্ভর সেবাও ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার দিক থেকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহও মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর জন্য নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ফোন ব্যস্ত থাকা কিংবা ফোন রিসিভ না করায় গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি গ্রাহকসেবাও আরও কার্যকর করতে হবে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গৃহস্থালি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ লোডশেডিং, রাতভর দুর্ভোগে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট রবিবার (২৮ জুন) সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় পুরো উপজেলাজুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরম ও অসহনীয় আবহাওয়ার মধ্যে রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগী এক গ্রাহক জুফাস নিউজকে জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া শুরু হয়। কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ থাকলেও আবার চলে যাচ্ছিল। পুরো রাতজুড়ে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকে। অসহনীয় গরমে ঘুমানো তো দূরের কথা, ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত নম্বরে তিনি একের পর এক ফোন করেন। মোট ৮৪ বার ফোন করেও অধিকাংশ সময় নম্বরটি ব্যস্ত পান অথবা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। অবশেষে ৮৫তম চেষ্টায় ফোন ধরলেও কোনো কার্যকর সমাধান বা আশ্বস্ত করার মতো তথ্য পাননি।

ওই গ্রাহকের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ৩০ বার বিদ্যুৎ এসেছে এবং গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যান, ফ্রিজ, পানির মোটরসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

এদিকে শুধু একটি পরিবার নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাতে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া দোকানপাট, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টারনেটনির্ভর সেবাও ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার দিক থেকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহও মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর জন্য নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ফোন ব্যস্ত থাকা কিংবা ফোন রিসিভ না করায় গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি গ্রাহকসেবাও আরও কার্যকর করতে হবে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গৃহস্থালি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ