পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ এ আদেশ দেন। আদেশ প্রদানের সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন কাজী মৌসুমী। এ ঘটনায় দলটির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে কাজী মৌসুমী উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল। অপরদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. হাসান প্রধানসহ একাধিক আইনজীবী।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী কাজী মৌসুমী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে উপস্থিত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, মামলায় জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গোপনে দলীয় কার্যক্রম উৎসাহিত করা, স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিষয় : পঞ্চগড়ের খবর

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ এ আদেশ দেন। আদেশ প্রদানের সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন কাজী মৌসুমী। এ ঘটনায় দলটির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে কাজী মৌসুমী উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল। অপরদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. হাসান প্রধানসহ একাধিক আইনজীবী।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের শর্ত অনুযায়ী কাজী মৌসুমী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে উপস্থিত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, মামলায় জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গোপনে দলীয় কার্যক্রম উৎসাহিত করা, স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন