ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বুনিয়াডাঙ্গী-কাশীপুর এলাকায় প্রবাহিত তীরনই নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার ভোর আনুমানিক ৪টায় বুনিয়াডাঙ্গী-কাশীপুর এলাকার তীরনই নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ব্রিজের পরবর্তী অংশসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নদীতে পেতে রাখা এবং মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত ১২টি রিংজাল, ৪টি ঘুপসি জাল এবং ৫টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নদীর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করে আসছিল। বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও ঘুপসি জালের মাধ্যমে ছোট মাছ এবং মাছের পোনা নিধন হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল। এতে করে নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছিল।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, সরকার দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু কিছু অসচেতন ব্যক্তি ও অসাধু জেলে এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করায় নদী ও জলাশয়ের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত সকল জাল উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয় এবং আইন অনুযায়ী জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার, মাছের পোনা নিধন এবং জলাশয়ের পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী ও খাল-বিলের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও জেলেদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীভিত্তিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিষয় : বালিয়াডাঙ্গীর খবর

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বুনিয়াডাঙ্গী-কাশীপুর এলাকায় প্রবাহিত তীরনই নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার ভোর আনুমানিক ৪টায় বুনিয়াডাঙ্গী-কাশীপুর এলাকার তীরনই নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ব্রিজের পরবর্তী অংশসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নদীতে পেতে রাখা এবং মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত ১২টি রিংজাল, ৪টি ঘুপসি জাল এবং ৫টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নদীর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করে আসছিল। বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও ঘুপসি জালের মাধ্যমে ছোট মাছ এবং মাছের পোনা নিধন হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল। এতে করে নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছিল।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, সরকার দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু কিছু অসচেতন ব্যক্তি ও অসাধু জেলে এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করায় নদী ও জলাশয়ের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত সকল জাল উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয় এবং আইন অনুযায়ী জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার, মাছের পোনা নিধন এবং জলাশয়ের পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী ও খাল-বিলের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও জেলেদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীভিত্তিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন