রংপুর    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
জুফাস নিউজ
আপডেট : সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ মানসিক চাপে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ মানসিক চাপে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে, অর্থ দাবি ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরিবারের দাবি, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাদের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের আরও অভিযোগ, গত ১ জুলাই ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মেয়েকে তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় আবুল কাসেমকে বাড়ির সামনে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

নিহতের স্ত্রী লাবণি আক্তার বলেন, “রোববার সকালেও ফোন করে মেয়ে ও টাকা দাবি করা হয়। পরে আমার স্বামী বাড়িতে যান। আমরা ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাই।”

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, “অপমান, ভয় ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, “সাইফুল বাড়িতে নেই। আর যতদূর জানি, আমার স্বামী ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।”

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিবেশীসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে, অর্থ দাবি ও মারধরের অভিযোগগুলো বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ। এসব বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয় : বালিয়াডাঙ্গীর খবর ঠাকুরগাঁও সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
জুফাস নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ মানসিক চাপে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে, অর্থ দাবি ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরিবারের দাবি, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাদের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও তাকে হুমকি দেওয়া হয়।


পরিবারের আরও অভিযোগ, গত ১ জুলাই ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মেয়েকে তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় আবুল কাসেমকে বাড়ির সামনে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।


নিহতের স্ত্রী লাবণি আক্তার বলেন, “রোববার সকালেও ফোন করে মেয়ে ও টাকা দাবি করা হয়। পরে আমার স্বামী বাড়িতে যান। আমরা ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাই।”


নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, “অপমান, ভয় ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, “সাইফুল বাড়িতে নেই। আর যতদূর জানি, আমার স্বামী ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।”

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিবেশীসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে, অর্থ দাবি ও মারধরের অভিযোগগুলো বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ। এসব বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


জুফাস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: খাদেমুল বাশার রিফাত


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জুফাস নিউজ